• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত কোটচাঁদপুরে ৩৯ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ​পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা ডিএসসিসির শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ, ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠালেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী দেবিদ্বারে বন্ধকী জুট মিলের যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, ২ ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ৮ বিরলে হাঁস-মুরগী ও শুকর লালন পালন বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন রাবি বিএনসিসির প্রথম নারী সিইউও গৌরীপুরের অপর্ণা ১৮ মাস পর নিখোঁজ কিশোরী নিঝুম হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, আদালতে আসামির স্বীকারোক্তি দেবিদ্বারে মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার….সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এমপি

নেতৃত্বের অচলাবস্থা আর ১৫ বছরের একচ্ছত্র ক্ষমতা বানিয়েছে ঠাকুরগাঁও কেমিস্টস্ সমিতিকে ভুতুড়ে বাড়ি

এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: / ১৮৬ Time View
Update : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁও জেলায় ওষুধ ব্যবসায়ী ও ফার্মাসিস্টদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস)-এর কার্যালয়টি দেখলে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত বাড়ি। শহরের কালিবাড়িতে অবস্থিত এই অফিস এখন আগাছা আর আবর্জনার স্তূপে ঢাকা এক ‘ভুতুড়ে বাড়ি’র রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এর মূল ফটক রয়েছে তালাবদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, এই অচলাবস্থার মূলে রয়েছে বর্তমান নেতৃত্বের ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ‘চেয়ারের মায়া’ ও নেতৃত্বের অচলঅবস্থা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় চার হাজার ওষুধ ব্যবসায়ী আছেন। কিন্তু তাদের এই প্রধান সংগঠনটি বর্তমানে সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ গুটিকয়েক নেতার ব্যক্তিগত এজেন্ডা পূরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একই নেতারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদে আছেন, ফলে নিয়মিত নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো সুযোগ না থাকায় লাইসেন্স নবায়ন, ওষুধের নীতিমালা বা ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমিতি সম্পূর্ণ অকার্যকর। বরং, সমিতির মাধ্যমে কোনো কাজ করাতে গেলে কিছু নেতার বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে তদবির’-এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অফিসের জীর্ণ দশা এবং দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বর্তমান সভাপতি আজিজুর রহমান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম এক অদ্ভুত যুক্তি দেন। তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সমিতির ভোট হয় না, কমিটি কেন্দ্র থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়। তাঁদের মতে, কেন্দ্র মনে করেছে বলেই তাঁরা এত বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখার কারণ হিসেবে তাঁরা এক তুচ্ছ অজুহাত দেখান—তাঁরা বলেন, অফিসের তার চুরি হয়ে গেছে, তাই কার্যালয়টি খোলা হয় না!

এদিকে কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হতে চললেও, এই ‘তার চুরির’ মতো তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে হাজারো ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার এমন কৌশল সংগঠনটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ভোগান্তিতে রয়েছে ৪ হাজার ব্যবসায়ী। সময়ের অভাবে নেতাদের না পাওয়া এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করা তাদের দৈনন্দিন সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের ওষুধ ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা—নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং ওষুধ ব্যবসা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/