এক সময়ের সৌন্দর্য বর্ধনকারী প্রায় শতবর্ষী শিমুল গাছটি এখন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান আলাদি বাজারের সাধারণ ক্রেতা ও দোকানদারদের জন্য ঘোর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ঘটাতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও বিপাকে রয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরাসহ স্থানীয়রা।
শনিবার ১৮-ই অক্টোবর বিকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান আলাদি বাজারে প্রায় শতবর্ষী মৃত এই শিমুল গাছটিকে নিয়ে স্থানীয়দের মনে শঙ্কা দেখা যায়।
জানা যায়, ভেলাজান আলাদি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল গাছটি। ফুল ফোটার সময় এর নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করত সবাইকে। কিন্তু কালের আবর্তনে গাছটি এখন শুকিয়ে মরে গেছে। গাছটির গুঁড়ি ও ডালপালা এখন দুর্বল ও ভঙ্গুর। এর বিশাল আকার ও বাজারের জনবহুল অবস্থান দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সামান্য ঝড়ো বাতাস বা ভারি বৃষ্টিতেই এটি ভেঙে পড়তে পারে।
বাজারের বিভিন্ন দোকানদার ও ক্রেতারা জানান, গাছটির নিচে ও আশেপাশে সব সময় মানুষের ভিড় থাকে। এটি ভেঙে পড়লে প্রাণহানি থেকে শুরু করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলছেন এবং ক্রেতারাও আতঙ্কে কেনাকাটা করছেন। দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম পিপুল বলেন, “এই গাছ এক সময় আমাদের বাজারের গর্ব ছিল, আজ তা আমাদের জন্য সাক্ষাৎ বিপদ। ভয়ে থাকি কখন যে ভেঙে পড়ে! প্রশাসনের উচিত দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেওয়া।”
বাজারের নিরাপত্তা এবং জনগণের জীবনের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত গাছটি অপসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে বন বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন জরুরি। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেই আবেদন জানিয়েছেন ভেলাজান আলাদি বাজারের সাধারণ মানুষ।
আলাদি হাট ইজারাদারের পক্ষ থেকে মোঃ আসাদুর রহমান জানান, জনস্বার্থে দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী মৃত শিমুল গাছটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গভীর দৃষ্টি কামনা করছি ।
https://slotbet.online/