• মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় জোর পূর্বক ভিজিএফ কার্ড নেওয়ার চেষ্টা! অবসরে গেলেন র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং এসবির অতিরিক্ত আইজি মোঃ গোলাম রসুল নাগরপুর প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল: শান্তি ও ঐক্যের বার্তা সাইনিং সিতোরিউ কারাতে একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের কারাতে বেল্ট, সার্টিফিকেট ও কারাতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হরিপুর টেংরিয়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার এর মাধ্যমে বোরো ধানের চারা রোপনের কার্যক্রম উদ্বোধন রক্তাক্ত জনপদ খুলনায় আবার ও প্রকাশ্যে গুলিতে যুবদল নেতা নিহত ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন অ্যাড. এম এ মজিদ বিরলের পল্লীতে জমি-জমার বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নেছারাবাদে বন্ধুকে মাথাবিচ্ছিন্ন করে হত্যা গ্রেপ্তার ২

সিরাজগঞ্জে পরপর দুই শিশু ধর্ষণের শিকার

মোঃইয়াছিন আলী, সিরাজগঞ্জ / ১৭১ Time View
Update : শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫

মাগুরার আছিয়ার ঘটনায় যখন সারাদেশ উত্তাল,বিচারের দাবিতে ফেসবুকেও চলছে তুমুল সমালোচনার ঝড়, এর মধ্যই সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও শাহজাদ পুরে দুইদিনে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

জানা যায়,সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১৪ বছরের এক কিশোরকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

পরে দুপুরের দিকে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের টিম তাকে পাবনা থেকে আটক করে, ডিবি পুলিশের এস আই নাজমুল হক জানান, পাবনার বেড়া উপজেলার শাহ পাড়া মামার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়, আসামী কিশোর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে তাকে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি কিশোরের বাবার বাড়িতে একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র আছে। গত রোববার সকালে সেখানে ছোট ভাই-বোনকে রেখে আসতে যায় ভুক্তভোগী শিশুটি। এ সময় শিশুটিকে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাথায় পানি ঢেলে বাড়িতে পাঠানো হয়। ওই দিন বিকেলে আবারও শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন পরিবারের সদস্যদের সে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন। ধর্ষণের বিষয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এদিকে গ্রামবাসীর তথ্যনুযায়ী, ৯ মার্চ রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে, পরে গত ৪ দিন বিষয়টি নিয়ে এলাকার প্রতাপশালী লোকজন মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা করে কিন্তু কিভাবে জানাজানি হলো বুঝতে পারলাম না, তবে ঘটনা সত্য।
এরই ধারাবাহিকতায় আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন উপজেলার ছাত্র-জনতা। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের ধানগড়া পুরোনো চৌরাস্তা মোড়ে সমাবেশের ডাক দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সমাবেশে অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারী ছাত্র–জনতা। এতে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অনেকেই ধর্ষণবিরোধী ও অভিযুক্তের শাস্তি দাবিসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পরে মিছিলটি ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

মুমূর্ষ অবস্থায় শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিটে রাখা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত রিশাতকে (১৪) আজ দুপুরে আটক করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত রিশাত ভুক্তভোগী শিশুটির মামাতো ভাই। সে শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রতনকান্দি উত্তর পাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলামের ছেলে ও হাবিবুল্লাহ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র।এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির নানী খোদেজা বেগম জানান, গত শনিবার রাতে আমার চার বছরের নাতনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। আমি ভেবেছিলাম হয়তো অসুস্থতার জন্য কান্না করছে। পরদিন ধর্ষণের বিষয়টি আমি জানতে পারি।পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সিরাজগঞ্জ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসলাম আলীসহ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষণের শিকার শিশুটির নানীর সাথে কথা বলেছেন। শিশুটির বাবা-মা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে এবং তার মেয়ে নানীর কাছে থাকে।এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি, অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/