মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক রাজা মিয়াকে জড়িয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত” বলে দাবি করেছেন তার সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে—তা পরিকল্পিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার জন্যই প্রচার করা হচ্ছে।
“ঘটনার সময় তিনি বাড়িতেই ছিলেন”
রাজা মিয়া দাবি করেন, হারেজ আলীর বাড়িতে হামলার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আমাদের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, যা তদন্ত হলে স্পষ্ট প্রমাণ দেবে। কে বা কারা কোথায় কী করেছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সামনের সড়কের সিসিটিভি ফুটেজেও প্রকৃত ঘটনার চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত
রাজা মিয়ার ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, তিনি উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক মহল তাকে টার্গেট করছে।
তাদের দাবি, অতীতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বেশিরভাগই ছিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া। ২০১০ সালের ডাকাতি মামলার রায় নিয়েও তারা বলেন, “সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীকেই হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।”
অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন
রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ অস্ত্র মজুদের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিকেও তার পরিবার ও সমর্থকরা “মনগড়া ও চাঞ্চল্য সৃষ্টির অপচেষ্টা” বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের বক্তব্য, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেনি এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যদি কারও কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকে, তাহলে প্রশাসন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা অনুচিত।”
প্রশাসনের বক্তব্য
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ঘটনার দুই দিক থাকতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
রাজা মিয়া ও তার সমর্থকরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক। একই সঙ্গে তারা “গুজব ও রাজনৈতিক অপপ্রচার” থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
https://slotbet.online/