আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা ভোটারদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। কে থাকবেন এগিয়ে—এই প্রশ্ন এখন মঠবাড়িয়ার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে।
নির্বাচনী হিসাব অনুযায়ী, পিরোজপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৪৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ৩১৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। বিপুল এই ভোটব্যাংক দখলে নিতে প্রার্থীরা জোর প্রচারণা, গণসংযোগ ও নানামুখী নির্বাচনী কৌশলে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, এই আসনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন দুলাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে দুলাল বলেন,“মঠবাড়িয়ার মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উৎসাহিত। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন,“বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দুঃসহ সময় পেরিয়ে মানুষ এখন সঠিক ও বিবেচনাপূর্ণ ভোট দিতে চায়। অতীতেও মঠবাড়িয়ার মানুষ বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ছিল। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারা বিএনপিকে জয়যুক্ত করবে।”
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন,“আমি শতভাগ আশাবাদী যে এখানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
মঠবাড়িয়ার প্রধান সমস্যা তুলে ধরে দুলাল বলেন, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ মঠবাড়িয়া গড়াই তার প্রধান অগ্রাধিকার।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজি। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় তার রয়েছে শক্ত ব্যক্তিগত পরিচিতি ও নিজস্ব ভোটব্যাংক।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনী মাঠে এখনও সমান ও স্বচ্ছ সুযোগের পরিবেশ তৈরি হয়নি। প্রতিপক্ষ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে এবং হুমকি ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে।”এ বিষয়ে তিনি ইউএনও ও থানার ওসিকে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. ফরাজি বলেন, “আমি বিভিন্ন দল থেকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করেছি। সবসময় ভালো ফল পেয়েছি। অর্থ বা দলীয় ক্ষমতার ওপর আমার বিশ্বাস নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, মঠবাড়িয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী, ১০ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী ড. শামীম হামিদী নতুন রাজনৈতিক ধারা, সংস্কার ও সুশাসনের বার্তা নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
তিনি বলেন, “৫ই আগস্টের পর যারা এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন, তারা সবাই নতুন। একসময় নাহিদ-আসিফরাও নতুন ছিলেন। ঠিক তেমনভাবেই আমরা জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।”
মঠবাড়িয়ার প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি মাদক ও এর পৃষ্ঠপোষকদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই সমস্যা সমাধান হলে সমাজে শিক্ষার পরিবেশ ও পারিবারিক শান্তি ফিরবে। এজন্য কমিউনিটি থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত কার্যকর আইন প্রয়োজন।”
জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের ১০ দলীয় জোট একটি ইসলামপন্থী ও বাংলাদেশপন্থী জোট। ইনশাআল্লাহ, এটি ভবিষ্যতে একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”
প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন,“৫ই আগস্টের পর ‘হেভিওয়েট’ বলে কিছু নেই। ভোটবিহীন নির্বাচনে কেউ হেভিওয়েট হতে পারে না। তাই জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।”
এ ছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মো. মাশরেকুল আজম রবি ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) থেকে করিম সিকদার ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৌহিদুজ্জামান ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
https://slotbet.online/