• মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় জোর পূর্বক ভিজিএফ কার্ড নেওয়ার চেষ্টা! অবসরে গেলেন র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং এসবির অতিরিক্ত আইজি মোঃ গোলাম রসুল নাগরপুর প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল: শান্তি ও ঐক্যের বার্তা সাইনিং সিতোরিউ কারাতে একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের কারাতে বেল্ট, সার্টিফিকেট ও কারাতে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হরিপুর টেংরিয়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার এর মাধ্যমে বোরো ধানের চারা রোপনের কার্যক্রম উদ্বোধন রক্তাক্ত জনপদ খুলনায় আবার ও প্রকাশ্যে গুলিতে যুবদল নেতা নিহত ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নিলেন অ্যাড. এম এ মজিদ বিরলের পল্লীতে জমি-জমার বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নেছারাবাদে বন্ধুকে মাথাবিচ্ছিন্ন করে হত্যা গ্রেপ্তার ২

নেতৃত্বের অচলাবস্থা আর ১৫ বছরের একচ্ছত্র ক্ষমতা বানিয়েছে ঠাকুরগাঁও কেমিস্টস্ সমিতিকে ভুতুড়ে বাড়ি

এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: / ১৪১ Time View
Update : সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁও জেলায় ওষুধ ব্যবসায়ী ও ফার্মাসিস্টদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস)-এর কার্যালয়টি দেখলে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত বাড়ি। শহরের কালিবাড়িতে অবস্থিত এই অফিস এখন আগাছা আর আবর্জনার স্তূপে ঢাকা এক ‘ভুতুড়ে বাড়ি’র রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এর মূল ফটক রয়েছে তালাবদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, এই অচলাবস্থার মূলে রয়েছে বর্তমান নেতৃত্বের ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ‘চেয়ারের মায়া’ ও নেতৃত্বের অচলঅবস্থা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় চার হাজার ওষুধ ব্যবসায়ী আছেন। কিন্তু তাদের এই প্রধান সংগঠনটি বর্তমানে সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ গুটিকয়েক নেতার ব্যক্তিগত এজেন্ডা পূরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একই নেতারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদে আছেন, ফলে নিয়মিত নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো সুযোগ না থাকায় লাইসেন্স নবায়ন, ওষুধের নীতিমালা বা ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমিতি সম্পূর্ণ অকার্যকর। বরং, সমিতির মাধ্যমে কোনো কাজ করাতে গেলে কিছু নেতার বিরুদ্ধে ‘টাকার বিনিময়ে তদবির’-এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অফিসের জীর্ণ দশা এবং দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বর্তমান সভাপতি আজিজুর রহমান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম এক অদ্ভুত যুক্তি দেন। তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সমিতির ভোট হয় না, কমিটি কেন্দ্র থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়। তাঁদের মতে, কেন্দ্র মনে করেছে বলেই তাঁরা এত বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখার কারণ হিসেবে তাঁরা এক তুচ্ছ অজুহাত দেখান—তাঁরা বলেন, অফিসের তার চুরি হয়ে গেছে, তাই কার্যালয়টি খোলা হয় না!

এদিকে কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হতে চললেও, এই ‘তার চুরির’ মতো তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে হাজারো ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্বকারী কার্যালয় বন্ধ রাখা এবং নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার এমন কৌশল সংগঠনটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ভোগান্তিতে রয়েছে ৪ হাজার ব্যবসায়ী। সময়ের অভাবে নেতাদের না পাওয়া এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করা তাদের দৈনন্দিন সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের ওষুধ ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা—নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং ওষুধ ব্যবসা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/