ইলিশ—এক অদ্ভুত অথচ রাজকীয় মাছ। সমুদ্রের গহীনে এর মুক্ত বিচরণ, অথচ একসময় সে নিজেই ছুটে আসে আমাদের নদীগুলোতে—শুধু একটি উদ্দেশ্যে, ডিম ছাড়বে লোকালয়ের জলে। এই মাতৃত্বের যাত্রায়ই জড়িয়ে থাকে মৃত্যুঝুঁকি। কারেন্ট জাল, চায়নাদুয়ারি আর ক্ষুধার তাড়নায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে হাজারো মা ইলিশ।
তবু এই প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবছরই মাঠে নামে প্রশাসন। ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষা অভিযানকে ঘিরে নদীমাতৃক বাংলাদেশে জেগে ওঠে এক নিরব যুদ্ধ। ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত—সবই নিষিদ্ধ ছিল এই সময়ে। বরিশাল, বরগুনা, চাঁদপুর, রাজবাড়ি, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ নদী তীরবর্তী জেলাগুলোতে ইউএনও, এসিল্যান্ড, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাত জেগে চালিয়েছেন অভিযান।
আগ্রাসী জেলেদের হাতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন মৎস্য কর্মকর্তা আহতও হয়েছেন, কিন্তু অভিযান থেমে থাকেনি। আটককৃত বিপুল জাটকা বিতরণ করা হয়েছে অভাবী মানুষ ও নিকটবর্তী এতিমখানায়। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে প্রণোদনাও—যাতে নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা টিকে থাকতে পারে।
মাঠ প্রশাসনের এই নিরলস পরিশ্রমে ফুটে ওঠে এক ভিন্ন চিত্র—কাগজে লেখা নীতি যখন বাস্তবে রূপ নেয়, তখন বদলে যায় নদীর গল্পও। হয়তো রাতারাতি নয়, কিন্তু ধীরে ধীরে এই প্রচেষ্টাই ফিরিয়ে আনবে ইলিশের সোনালি দিন, মাতৃত্বের নিরাপদ নদী।
https://slotbet.online/