• শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কৃষকদল নেতার মৃত্যু: ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, স্ট্রোকের দাবি জামায়াতের বিরলে ০৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতার যৌথ উদ্যোগে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সখীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার আসামি অন্তর আহমেদ গ্রেপ্তার বিরল উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু সখিপুর টাইগার ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় ব্ল্যাকমেইল চক্রের ফাঁদে ব্যবসায়ী, নগ্ন ভিডিও করে মুক্তিপণ দাবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের শ্রদ্ধা নিবেদন নড়াইলে ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাঁটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

সমতল ভূমিতেই মাল্টার সোনালি ফসল, পিরোজপুর কৃষকদের মুখে হাসি

মোঃ শামীম হোসাইন / ১০৫ Time View
Update : শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

এক সময় মাল্টা চাষ সীমাবদ্ধ ছিল পাহাড়ি অঞ্চলে। তবে বর্তমানে সমতল ভূমিতেও ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে এ ফল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পিরোজপুরে এখন বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ কম, স্বাদ ও ঘ্রাণে অতুলনীয় হওয়ায় জেলার কৃষকদের কাছে এটি একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পিরোজপুরে ৪৩০ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন। সবচেয়ে বেশি মাল্টা চাষ হয়েছে পিরোজপুর সদর ও নাজিরপুর উপজেলায়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষক সরাসরি মাল্টা চাষের সঙ্গে জড়িত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক মো. রেজাউল হাসান বলেন, “পিরোজপুরের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

পিরোজপুর চাষি জলিল আহমেদ জানান, গত বছর একটি গাছ থেকে সর্বোচ্চ ২-৩ মণ মাল্টা পেয়েছিলেন। এবার একই গাছ থেকে ৪-৬ মণ পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন। তবে তিনি বলেন, বাজারে মাল্টার দাম আগের তুলনায় কিছুটা কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছেন।
পিরোজপুরে শুধু কৃষকরাই নয়, মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও মাল্টা বাণিজ্যে যুক্ত হচ্ছেন। সদর উপজেলার ব্যবসায়ী বেলায়েত দুইটি বাগান কিনে পরিচর্যা করেছেন। প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হলেও তিনি আশা করছেন ৭-৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন।

শ্রমের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও অতিরিক্ত আয় করছেন। পথেরহাট গ্রামের কলেজছাত্র আরমান জানান, মাল্টার মৌসুমে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাজ করে তিনি ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন।

আমড়া, পেয়ারার মতোই মাল্টা এখন পিরোজপুরের কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। তবে এখনও নির্দিষ্ট কোনো মাল্টার বাজার গড়ে ওঠেনি। এ কারণে কৃষকদের ফড়িয়া ও মধ্যসত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান হাওলাদার জানান, মৌসুমি ফল সাধারণত আড়তের মাধ্যমে বিক্রি হয়। এজন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পিরোজপুরে উৎপাদিত মাল্টার গুণগত মান আমদানি করা মাল্টার চেয়েও ভালো বলে দাবি করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। জেলার এটেল, দোআঁশ ও বেলে মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়া মাল্টা চাষে সহায়ক। ফলে জেলার মাল্টা হয় অতিরিক্ত মিষ্টি ও রসালো।

মাল্টা চাষের সফলতা দেখে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলাতেও নতুন নতুন মাল্টার বাগান গড়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুকূল পরিবেশ ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চল দেশের মাল্টার প্রধান উৎপাদন এলাকায় পরিণত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/