জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “যুগবার্তা ডট কম” রংপুর অফিসের এবং “দৈনিক মুক্ত খবর” পত্রিকার রানীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মহশীন আলী পেশাগত দায়িত্ব পালনে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় বাঁধা ও মারপিটের শিকার হয়েছেন। এ সময় তাঁর সাথে থাকা মোবাইল, ক্যামেরা, টাকা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ, মানিব্যাগে রক্ষিত ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে ।
এ ব্যাপারে গত ১৬ -ই জুন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যা চলমান রয়েছে। ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিক সহ বিভিন্ন মহলে গভীর উদ্দোগের সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে,
গত ১১-ই জুন আনুমানিক রোজ বুধবার বিকাল অনুমান ৩:০০ মিনিট এর সময় সাংবাদিক মহশীন আলী পূর্ব-রাতোর গ্রামে আগুন লাগার সংবাদ জানতে পেরে সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য যায়। সেখানে জনৈক মোতালেবের বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকা দৃশ্য দেখে তা তার ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় কিছু মানুষ জানায় মোতালেবের বাড়িতে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা দুর্বৃত্তরা আবার মোতালেবের বাবা আতাবুর রহমান (আতা)’র ও তার ভাইদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। সেই কথা শুনে আতাবুরের বাড়ির সামনে মহশীন পৌঁছানো মাত্রই
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুস সামাদ, সামাদের ছেলে নাসির, রানীশংকৈল উপজেলার পূর্ব রাতোর গ্রামের মৃত আকালু মোহাম্মদ এর ছেলে আব্দুল গফুর, গফুরের ছেলে সাগর, মৃত মকবুলের ছেলে মোজাফফর হোসেন, বড় রাতোর গ্রামের হাজি’র ছেলে রশিদুল ইসলামসহ আরো ৩০/৩৫ অজ্ঞাত ব্যক্তি বলে ওঠে, এখানে সাংবাদিক এসেছে। সেই ভিডিও করছে তাকে ভিডিও করতে দেওয়া যাবে না। এই বলে উক্ত ব্যক্তিগণসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ লোক এসে তার পরিহিত গেঞ্জি টেনে-হিচড়ে ছিঁড়ে তাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। আর তার সাথে থাকা নিজ ব্যবহৃত অপ্পো কোম্পানির স্মার্ট মোবাইলটি, ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরা, নগদ টাকা, মানিব্যাগ সহ যাবতীয় ছিনিয়ে নেয়। এই সময় একজনের ছোঁরার আঘাতে তার বাম হাতের মধ্যমা আঙ্গুল কেটে যায় যাতে তিনটি সেলাইয়ের প্রয়োজন পড়ে এবং বাম চোখ ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে এজাহারে বর্ণিত সাক্ষীদের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় সেখান থেকে মহশীন প্রাণে বেঁচে এসে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসা শেষে রানীশংকৈল থানায় সাংবাদিক মহশীন আলী উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রানীশংকৈল থানায় এজাহার মূলে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহশীন আলী জানান, আমার উপর হামলাকারী ব্যক্তিগণ অত্যন্ত খারাপ ও জঘন্য প্রকৃতির লোক। উনারা ইতোপূর্বে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলের সাজা ভোগ করে এসেছেন। পরবর্তীতে উনারা যে জায়গায় বসবাস শুরু করেন সেই জায়গাটি মার্ডার বস্তি নামে পরিচিতি পেয়েছে। আমার উপর হামলাকারীদের কারণে ওই এলাকায় সব সময় দাঙ্গা হাঙ্গামা, ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি লেগেই থাকে। যার ফলে সেখানে পরবর্তীতে ওই এলাকায় আরো হত্যা সংঘটিত হয়েছে। আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা সেখানে তৈরি করেছেন ত্রাসের রাজত্ব। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার পরিণতি হয় আমার মত। আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে যারা আমার উপর হামলা করেছে, মারপিট ও হেনেস্থা করে আমার মালামাল লুট করেছেন আমি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। সেই সাথে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে স্বাধীন ও ভয়-ডরহীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরশেদুল হক জানান, এজাহার পেয়ে তদন্ত করে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য একজন দক্ষ অফিসারের দ্বারা মামলার আরো তদন্ত সহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
https://slotbet.online/