বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিন যুবক। পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপে নিহতদের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনকরতে বাধ্য হন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আড়াল করতে
পুলিশ বাদি হয়ে আন্দোলনকারী ও বিএনএপি নেতাকর্মীদের নামে একটি হত্যা
মামলা দায়ের করে। পুলিশ নিহতদের পরিবারকে কোনো মামলা দায়ের করতে দেয়নি।
এমতাবস্থায় সরকার পতনের পর গণহত্যার বিচারের কথা বলা হলেও গৌরীপুরে তিন
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবারের লোকজন। নুরে আলম সিদ্দিকী রাকিব
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ জুলাই উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের চুড়ালী গ্রামের বাবুল মিয়ার একমাত্র কলেজ পড়ুয়া ছেলে বিপ্লব হাসান (২০) কোটাবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতেনিহত হন।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগা ও মধ্যপাড়া গ্রামের মাওলানা আব্দুল হালিমের একমাত্র ছেলে নূরে আলম সিদ্দিকী রাকিব (২০) অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্যে ওষুধ আনতে কলতাপাড়া বাজারে যাওয়ার পথে ভিডিও করায় পুলিশ তাকে গুলি করে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্বকাউরাট গ্রামের আনোয়ার উদ্দিনের ছেলে জোবায়ের আহমেদ (২১) জোবায়ের আহমে ময়মনসিংহ নগরার শম্ভুগঞ্জে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কে রিকসা থেকে নামিয়ে পুলিশ তাকেও গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে নিহত এ তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল
কলেজ হাসপাতালে আনা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের মৃত্যুসনদ দেয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের লাশ পরিবারকে দেয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপে দ্রুত লাশ দাফন করতে পরিবারকে বাধা করা হয়। এখন তাদের বিচার নিয়ে চিন্তিত পরিবার।
https://slotbet.online/