খান মোঃ আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ইউনিয়নের লিপি ফকিরের বাড়ির পার্শে বসবাসরত মোঃ সিরাজ হাওলাদার(৩৭), পিতাঃ জামাল আলী হাওলাদার, কে চোর সন্দেহে ৮/১০ জন ব্যক্তি ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪:৩০ ঘটিকার সময় বাড়ি এসে ঘুম থেকে তুলে বাহিরে না আসায় দরজা ভেঙ্গে বাড়ির ভেতর ঢুকে নিষ্ঠুর ভাবে মারতে মারতে বাড়ি থেকে ধরে এনে শিরোমনি দক্ষিণপাড়া কালভার্ট মোড়ে নৃশংসভাবে দা ও রড দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করে। এমনকি লোহা জাতীয় কিছু তার চোখে ভেতরে এমন নৃশংসভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যা পেছন থেকে বেড়িয়ে যায়। ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়। আসামীরা ঘরে ঢুকে মালামাল ভাংচুর সহ নগদ চল্লিশ হাজার টাকা লুটেনিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর কাছথেকে জানাযায়, দিদার সরদার(৩০), পিতাঃ বিনু সরদার, আসাদ মোড়লের বাড়ির ভাড়াটিয়া, যোগীপোল কে ভ্যান চুরির অপরাধে ধরে মারধোর করলে সে, সিরাজের কথা উল্লেখ করে। আর তখনি উক্ত ব্যক্তিরা সিরাজ কে শিরোমনি দক্ষিণপাড়া কালভার্ট এলাকায় ধরে আনে এবং দুইজনকেই নৃশংসভাবে অত্যাচার করতে থাকে। উপস্থিত গ্রামবাসী তাদের কে নিষেধ করলে ও তারা কোনো কর্ণপাত না করে উপর্যুপরি আঘাত করতেই থাকে। এলাকাবাসী জানান, আমরা তাদেরকে বলেছি সে চোর হতে পারে তাকে প্রসাশনের হতে তুলেদেন, আপনারতো তাদেরকে মেরে ফেলতে পারেন না। এমনকি অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসা করার কথা বললেও তারা অগ্রাহ্য করে এই দুই জনকে নির্মমভাবে প্রহার করে। ফলে ঘটনাস্থলেই সিরাজের মূত্য হয়। পরবর্তিতে আসামীরা চলে গেলে তাদের আত্মীয় স্বজনেরা গ্রামবাসীর সহযোগীতায় তাদেরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং কর্মরত ডাক্তাররা সিরাজকে মৃত ঘোষনা করে।
সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সিরাজের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ফাসির দাবীতে এলাকাবাসী নিহত সিরাজের মৃতদেহ নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ ঘটিকায় যোগীপোল মধ্যপাড়া লিপি ফকিরের বাড়ির মোড় এলাকায় মানববন্ধন পালন করে।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বর্তমান সময়ে এই ধরনের বর্বর ও নৃশংস হত্যাকান্ডের এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, এটা কোনো সহিংস ঘটনা নয় এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা। আমরা হত্যাকারীদের ফাসি চাই। মানববন্ধন শেষে যোগীপোল সরকারী গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
খানজাহান আলী থানার ওসি তদন্ত জানান, নিহতের ভাই বাদী হয়ে ৪ জন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ১২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এবং মামলার ১০নং আসামী মোঃ মিলন(৪৩), পিতাঃ হাবিবুর রহমান, যোগীপোল কে তারা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বাকি আসামীদের ধরার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। মামলার গোপনিয়তার স্বার্থে আসামীদের নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
https://slotbet.online/