খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে নেশা দ্রব্য। মাদকে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী যুবকেরা। দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীর বিস্তার। ছোট খাটো মাদক সেবী ও মাদক বিক্রেতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও মাদকের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকরা থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এমনকি দিঘলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় সর্বনাশা মাদকের জাল বিস্তারে সমাজের কোন কোন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক মহল জড়িয়ে পড়ছে এমনটাই জানিয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলাটি ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২ টি ইউনিয়ন কেএমপির আওতায়। অপর একটি ইউনিয়ন গাজীরহাট আতাই নদী দ্বারা উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। আাতাই, ভৈরব ও মজুদখালী নদী দ্বারা বেষ্টিত সেনহাটি, দিঘলিয়া ও বারাকপুর ইউনিয়ন। এ ৩টি ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহতা চরমে। এ ইউনিয়ন ৩টিতে মাদকের আমদানি ও কেনাবেচা বেড়েই চলেছে। সেনহাটি, দিঘলিয়া ও বারাকপুরে মাদকের প্রসারে উঠতি বয়সী যুবকেরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকের জালে। মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠছে উঠতি বয়সী যুবকদের সমন্ময়ে কিশোর গ্যাং। জনপদে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি, ছিনতাই, মারামারি, ইভটিজিংসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ড।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সেনহাটি ইউনিয়নের বাইশোর মার খেয়াঘাটের পাশে, হাজীগ্রাম পোলের পাশে ও নদীর পাড়ে, বেলেঘাট বাজারের আশপাশ, হাজীগ্রাম পশ্চিম আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়ামের দোতলা, মমিনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা, উত্তর চন্দনীমহল কুরিপাড়া, বাগানবাড়ি মোড়, চন্দনীমহল কাটাবন, গুচ্ছগ্রাম এলাকা, শেখ পাড়া, সেনহাটি শিব মন্দীরের পিছন এলাকা, সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছন এলাকা, পালপাড়া মোড়, সাগর জুট মিলের কোয়ার্টারের সামনে, আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজের পিছনে কমিউনিটি ক্লিনিক মোড়, গোয়ালপাড়া মোড়, মদীনা মসজিদ কলোনী এলাকা, রেজার মোড়, বরইতলা লিটুর বাগান, সরিষাপাড়া মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা নেশা দ্রব্য বিচিকিনির নিরাপদ স্থান। পাশাপাশি কলেজ পাড়ায় চলছে জোয়ার আসর। এক সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় লাখ লাখ টাকার নানা নেশা দ্রব্য আমদানি ও কেনাবেচা হয়ে থাকে। সম্প্রতি নেশাসক্ত হয়ে ফরমাইশখানা গ্রামের নুরুর পুত্র আমির হামজা ভৈরব নদীতে ডুবে মারা যায়। ফরমাইশখানার আঃ হামিদ খানের পুত্র শায়েস্তা খান ও দেয়াড়া কলোনী এলাকার জামিরসহ একটা সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রামের কক্সবাজার এলাকা থেকে নানা নেশা দ্রব্য আনতে গিয়ে শায়েস্তা খান আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে নেশা দ্রব্যসহ আটক হয়েছে। বাকীরা সুকৌশলে পালিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা গোলারঘাট, ভৈরব নদীর কূল, কাঁঠালতলা, কাঠ কাটা মিল, বাঁশ বাগান, সুগন্ধী স্কুলের সামনের রাস্তা, মোড়ল পাড়া রাস্তার মোড়, দেয়াড়া খেয়াঘাটের আশপাশ, কোহিনুর প্রাইমারী স্কুলের আশপাশ, দেয়াড়া কলোনী ও কলোনীর উত্তরে ফাঁকা নদীর কূলে, নগরঘাট এলাকা, ব্রহ্মগাতী, পানিগাতী, দিঘলিয়া কলেজের আশপাশ, নদীর কূল, মহেশ্বরপুর, বারাকপুর, লাখোহাটি, নন্দনপ্রতাপ, আড়ুয়া ঘাট এলাকা, কামারগাতী এলাকা মাদক বিক্রয়ের স্পট বলে জানা যায়।
দিঘলিয়ায় গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা নেশাদ্রব্য অবাধে আমদানি ও কেনাবেচা বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা নেই বললেই চলে। দিঘলিয়া থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযানে মাদকসহ অপরাধী গ্রেফতার হলেও মাদকের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বিজ্ঞমহল। সকল অপরাধের জনক এই মাদকের আমদানি ও কেনাবেচা বেড়েই চলেছে। রাতে চুরি ডাকাতি দিনে মাদকের কেনাবেচা এমন অপরাধী ঢের। মাদকের আধিপত্য ও ভাগাভাগি নিয়ে খুন, কোপাকুপি ও মারামারি লেগেই আছে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি শিব মন্দীরের পিছনের বেদে পল্লীতে। সম্প্রতি এ এলাকার অপরাধীরা নতুন সাজে আত্নপ্রকাশ ঘটানোর জন্য নতুন নতুন দেশী অস্ত্র আমদানি করেছে বলে জানা গেছে।
একটি সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেশা দ্রব্য ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও মাদকের সাথে জড়িত গডফাদার ও তাদের পৃষ্ঠপোষকগণ থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এক সময় দিঘলিয়ার কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক মাদকের সাথে জড়িত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পুলিশের তালিকাবদ্ধ হলেও আইনের ফাঁক-ফোকরে সেটা চাপা পড়ে যায় বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সেনহাটিতে হত্যা, মারামারি, কুপাকুপি, চুরিসহ সব কিছুই ঘটছে মাদককে ঘিরে। এলাকার মানুষ অশান্তি ও নির্ঘুমে কাটাচ্ছে রজনী। কখন কি ঘটে। প্রায় রাতে বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি, নলকূপের মাথা চুরি, ভ্যানের ও ইজিবাইকের ব্যাটারী চুরি, বাড়ির ও প্রতিষ্ঠানের মোটর চুরি হচ্ছে। মাদক ও কিশোর গ্যাং ও ভাঙ্গাড়ির ব্যবসা এ তিনটাই এলাকায় এক সূত্রে গাঁথা। সেনহাটি সাবুতলা মন্দির মোড় থেকে কাটানীপাড়া স্কুল মাঠ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা চোখে পড়ার মত। ১৩ থেকে ২০ বছর বয়সী এ যুবকেরা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত। এ সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং সুযোগ পেলেই একটা মহলের ইশারায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ দিয়ে, বাজার ও কিছু মোড়ে চায়ের দোকানে, পাড়া ও মহল্লার মোড় ও নির্জন জায়গায় মেয়েদের ও মা-বোনদের বিভিন্নভাবে শারীরিক অঙ্গভঙ্গী ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার মাধ্যমে ইভটিজিং করে থাকে। পর্দার আড়ালে থাকা একটা মহল বড় ভাই হিসেবে এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বিজ্ঞমহল।
এ ব্যাপারে কথা হয় দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাবুল আক্তারের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স। দিঘলিয়ায় মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। কয়েকজন মাদক বিক্রেতা ও কিশোর অপরাধীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি দিঘলিয়ায় মাদক নির্মূলে সকলের সাহায্য কামনা করেন।
https://slotbet.online/