• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই সাংবাদিকদের পেটালেন সন্ত্রাসীরা ঝিনাইদহ টু চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে আলমসাধু উল্টে নিহত ১, আহত ৩ নবীনগরের কথা পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের শুভ উদ্বোধন প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশে অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জুলাই বিপ্লবের বেনিফিসিয়ারি বিএনপি গাদ্দারি করছে- মিয়া গোলাম পরওয়ার দুদকের তদন্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ- আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণে কলারোয়ায় জামায়াতের র‍্যালি ও আলোচনা সভা লোকগীতিতে সারা দেশে প্রথম, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেল সখীপুরের অনয়া ​বারবার সতর্কতার পরও অবহেলা: এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৩১ হাজার টাকা জরিমানা ডিএসসিসির ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে আটক, পরে মুক্তি—এএসআইয়ের বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন

খুলনায়”স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা, জবানবন্দিতে পিতার মৃত্যুর দ্বায় স্বীকার

Reporter Name / ২৪৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম

খুলনার দৌলতপুরস্থ দেয়ানা উত্তরপাড়ার আলোচিত হুমায়ুন কবির হত্যার ধুম্রজাল, জল্পনা, কল্পনা সহ নানা গুঞ্জন কেটে হত্যার জট খুলতে শুরু করেছে। স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির সহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের নামে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন মৃত শেখ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী ফারজানা আফরিন (৪১)।সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ সকাল ১০ টার দিকে দৌলতপুর থানায় উপস্থিত হয়ে ৩২৮/৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলার গ্রেফতারকৃত আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির (১৬) কে আদালতের কাছে সর্পোদ করা হয়েছে।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত আসামীর ১৬৪ ধারা জবানবন্দী গ্রহন করছে। জবানবন্দীতে আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির তার পিতার হত্যার দ্বায় স্বীকার করেছে।

এজাহারে বাদী জানান গত ৩ জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে বাদী ফারজানা আফরিন ও তার মেঝো মেয়ে হুমাইরা বিনতে কবির (১৯) বাহির থেকে হেটে এসে হাত মুখ ধুয়ে প্লাস্টিকের জগে রাখা পানি পান করার কিছু ক্ষনের মধ্য বাদীর প্রচুর ঘুম আসে এবং নিজের শয়ন কক্ষে গিয়ে শুয়ে পড়েন।
বাদীর স্বামী হুমায়ুন কবির মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় এসে ফ্লোরে রাখা খাবার নিজে নিয়ে খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। বাদীর স্বামীর শুয়ার কিছুক্ষন পর ঘুম ঘুম চোখে উঠে থালা বাটি গুছিয়ে আবার স্বামীর পাশে শুয়ে পড়েন।ওই দিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে বাদীর ছোট মেয়ে আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির তার ভয়ে ঘুম আসছে না বলে তার মাকে ডেকে তার শয়ন কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে আসামী সুমাইয়া ও তার মা (বাদী) ঘুমিয়ে পড়েন। মেঝো মেয়ে হুমাইরা বিনতে কবির তার নিজ শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।৪ জুলাই ২০২৪ সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে বাদীর ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখেন গেটে তালা দেওয়া। তার স্বামীকে এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমাতে দেখে তার কাছে গিয়ে ডাকদেন। ডাকের সারা না পেয়ে স্বামীর মুখে ও বুকে হাত দিয়ে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে তার মেঝো মেয়ে হুমাইরা বিনতে কবির কে ডাকে দেন এবং বলেন তোর বাবা মনে হয় আর নেই।

তার মেঝো মেয়ে রুমে এসে তার বাবার এই অবস্থা দেখে ডাক চিৎকার দিতে থাকলে তার বড় চাচা শেখ নজরুল ইসলাম ও আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। ওই সময় তিনি তার স্বামীর বাম হাতের বাহুর উপরের অংশে ২ টা ছিদ্র ও বাম হাতের আঙ্গুলে রক্ত দেখতে পান।ওই সময় উপস্থিত সকলে ধারণা করে ছিলো তার স্বামী হুমায়ুন কবির স্ট্রোক জনিত কারণে মারা গেছে, আবার অনেকেই বলে ছিলো সাপের কামড়ে মারা গেছে। সেই কারণে পুলিশ কে না জানিয়ে তারা দাফন কার্য সম্পন্ন করে।বাদী জানান আমার স্বামীর মৃত্যর কয়েক দিন পর আমার ছোট মেয়ে আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির তাকে ও আমার মেঝো মেয়ে হুমাইরা বিনতে কবির কে স্বেচ্ছায় জানিয়েছে সে রাতের খাবার ও খাবারের পানির মধ্য ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ছিলো এবং রাতে বালিশ চাপা দিয়ে তার বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তখন বাদী ও তার মেঝো মেয়ে আসামী সুমাইয়া বিনতে কবিরের কাছে তার বাবাকে মেরে ফেলার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় তার বাবা তাকে শাসন করত বিধায় রাগের বশে বাবাকে মেরে ফেলেছে।

সুমাইয়া বিনতে কবির আরো জানায় কেউ যাতে ঘুম থেকে জেগে না ওঠে সেই জন্য আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির তার মায়ের খাবার পানি ও তার মেঝ বোন হুমাইরা বিনতে কবির কে কোমল পানীয় (ডিংকো) এর মধ্য ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয় এবং আসামী তার বাবাকে সুকৌশলে মেরে ফেলার জন্য তার মাকে নিজের (আসামীর) শয়ন কক্ষে নিয়ে যায়।বাদী জানান (৩ জুলাই ২০২৪) আনুমানিক রাত ১০ টা থেকে (৪ জুলাই ২০২৪) সকাল আনুমানিক ৭ টার মধ্য যে কোন সময় সুমাইয়া বিনতে কবির সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন আসামী মিলে তার স্বামীকে রাতের খাবারের মধ্য ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ বদিউর রহমান জানান দৌলতপুরের দেয়ানা উত্তরপাড়ায় (৪ জুলাই ২০২৪) মোঃ হুমায়ন কবিরের মৃত হয়। তার মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির দৌলতপুর থানায় এসেছে তার পিতাকে ঘুমের ঔষধ ও বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে বলে দ্বায় স্বীকার করে।

মৃত হুমায়ুনের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জুলাই তার ছোট মেয়ে সুমাইয়া বিনতে কবির সহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের নামে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী সুমাইয়া বিনতে কবির কে আদালতের কাছে সপোর্দ করা হয়েছে।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত গ্রেফতারকৃত আসামীর ১৬৪ ধারা জবানবন্দী গ্রহন করে। জবান বন্দিতে সে তার পিতার মৃত্যুর দ্বায় স্বীকার করেছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উত্তোলনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/