টাঙ্গাইল শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কোর্ট চত্বরসংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে বসা পুরাতন কাপড়ের মার্কেটটি এখন দখলদারিত্ব ও অবৈধ অর্থ আদায়ের এক অঘোষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই মার্কেটে জীবিকার তাগিদে দোকান বসালেও তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তা ও হয়রানির মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই মার্কেটে দোকান বসাতে মাসিক ভাড়া হিসেবে নেওয়া হয় ১৫০০ টাকা। এর বাইরে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কে নিচ্ছে বা কোন সংস্থার নামে নেওয়া হচ্ছে—তা কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই টাকা আদায়ের বিপরীতে কোনো রশিদ বা লিখিত কাগজপত্র দেওয়া হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা আগের মতো নেই। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রেতা সংকটের কারণে বেচাকেনা খুবই কম। অনেক দিন সারাদিন দোকান খোলা রেখেও বিক্রি হয় না। অথচ প্রতিদিন নির্ধারিত ৩০ টাকা না দিলে দোকান বসাতে বাধা দেওয়া হয়, কখনো কখনো নানা ধরনের হুমকি ও চাপও দেওয়া হয়।
এক ব্যবসায়ী বলেন,বেচাকেনা না হলেও টাকা দিতে হয়। আমরা জানি না এই টাকা কার কাছে যায়। প্রশ্ন করলেই ঝামেলা বাড়ে, তাই চুপ করে দিতে বাধ্য হই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বা পৌরসভার কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে হেলিপ্যাড মাঠে এই পুরাতন কাপড়ের মার্কেট বসানো হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী চক্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এই মার্কেট পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঠটি সরকারি সম্পত্তি হলেও এখানে কীভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান বসানো ও অর্থ আদায় করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, যদি সরকারি বা পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হতো এবং রশিদ দেওয়া হতো, তাহলে তাদের কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু অনিয়ম, দখলদারিত্ব ও জবাবদিহিতাহীন অর্থ আদায় তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মার্কেট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা এই অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/