বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনি (১৬) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করাসহ জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবু রাসেল স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: ১. রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৫), রাজৈর গ্রামের মো. মাসুম বিল্লাহ হাওলাদারের ছেলে, ২. মো. মিজানুর রহমান (২৩), উত্তর কদমতলা গ্রামের মৃত আওয়াল সরদারের ছেলে এবং ৩. তুহিন (২১), উত্তর রাজাপুর গ্রামের মো. আমিরের ছেলে।
প্রেস রিলিজ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) ভোর অনুমান ৬টা ৫ মিনিটে উপজেলার ২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের ওমর ইবনে ইয়াছির জামে মসজিদের কবরস্থানের উত্তর পাশে ইটের সলিং রাস্তার ওপর একটি গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই মসজিদের ইমাম মো. বাবুল মুন্সী (৬০)। তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদার দেলোয়ার ফরাজীকে জানালে, চৌকিদার শরণখোলা থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় পরদিন (২৫ মার্চ) নিহতের বাবা মো. আজিম শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শরণখোলা থানার এসআই বিপ্লব কুমার জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রফিকুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মিজানুর ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি মিজানুর রহমান। জবানবন্দিতে তিনি জানান, মাদকের লেনদেন নিয়ে রিয়া মনির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর জেরে তারা পরিকল্পিতভাবে রিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রিয়াকে মাদক সরবরাহ, বিক্রি ও অনৈতিক কাজে ব্যবহার করত। মাদক ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক বলেন, “প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলার মূল হত্যাকারীসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
https://slotbet.online/