পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহাসিক ছারছিনা দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে ১৩৫তম তিন দিনব্যাপী ঈসালে সাওয়াব মাহফিলের আখেরি মোনাজাতে লাখো আশেকানে-রসুল, মুরিদ ও ভক্তবৃন্দের ঢল নামে। ভোর থেকেই দেশ–বিদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষজন দলে দলে ছুটে আসেন পবিত্র এ দরবারে।
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ছারছিনা দরবারে প্রতিবছরের মতো এবারও দোয়া, জিকির-আছকার, মিলাদ ও ওয়াজ-মাহফিলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে মুখর থাকে পুরো প্রাঙ্গণ। আজকের আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে দরবার এলাকায় সৃষ্টি হয় মিলনমেলার মতো পরিবেশ।
আখেরি দিনে উপস্থিত ছিলেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলোহাব সাইদানি, নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
শেষ দিনের বয়ানে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমির ও ছারছীনা দরবারের পীর হজরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, সামাজিক শান্তি ও মানবকল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা ইসলামী আদর্শে জীবন গড়ার আহ্বান জানান এবং দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারউদ্দীন আহমদ (রহ.) কেবলা ও পরবর্তী সাজ্জাদানশীনগণের ত্যাগ-তপরতার স্মৃতি তুলে ধরেন।
মাহফিল মাঠজুড়ে ছিল শৃঙ্খলার অনুপম চিত্র। নীরবতা, আধ্যাত্মিক আবহ ও ভক্তদের গভীর আবেগে পরিবেশ হয়ে ওঠে বিশেষভাবে মনোমুগ্ধকর। কেউ কেউ আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
দুপুরের পরে সাজ্জাদানশীন ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর আমির হজরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বমানবতার শান্তি–সমৃদ্ধির জন্য হাত তুলে মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি।
মাহফিল ঘিরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ট্রাফিক বিভাগ ও মেডিকেল টিম সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। দরবার শরীফের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাদরাসার ছাত্ররা খাস ফরিক, সেবা বিভাগ, হারানো মাল বিভাগ ও পার্কিং সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
দেশ–বিদেশ থেকে রিজার্ভ লঞ্চ, বাস, ট্রাক ও ট্রলারযোগে আসা মুহিব্বীন ও ওলামায়ে কেরামগণের আগমনে পুরো ছারছিনা এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শান্তিপূর্ণভাবে মাহফিল সম্পন্ন হওয়ায় ভক্তরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং আগামী বছর আবারও একত্র হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
https://slotbet.online/