টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের সুদামপাড়া গ্রামে জব্বার হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, ফরেনসিক টিম ও নিহতের স্বজনদের উপস্থিতিতে এই উত্তোলন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
নিহত জব্বারের পরিবার অভিযোগ করেছে—হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ‘প্রভাবিত’ করা হয়। তারা মনে করেন, রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং অপমৃত্যু দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। পুনঃতদন্তের আবেদন করলে আদালত তা আমলে নিয়ে ছয় মাস পর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।
উত্তোলিত লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলা নতুন করে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাঁতী/মৎস্যজীবী/উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক বাদশা সহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী দাবি করেছেন—হত্যার পর প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা এবং প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য, জব্বারের সঙ্গে আসামিদের পূর্ব বিরোধ ছিল। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা কিনা বা আকস্মিক সংঘর্ষ—রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। তবে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে বলে তারা আশাবাদী।
পুলিশ জানায়, নতুন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে নতুন আসামি যুক্ত করা ও চার্জশিট সংশোধন করা হবে। অপরাধীরা কেউই ছাড় পাবে না।
নিহত জব্বারের পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম ময়নাতদন্তেও ন্যায় বিচার পাইনি। এবার সত্য বেরিয়ে আসুক—আমরা শুধু বিচার চাই।”
https://slotbet.online/