চুয়াডাঙ্গার কৃষকরা বর্তমানে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মাঠে ফসলের ফলন নিশ্চিত করতে যখন সারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই বাজারে তা অপ্রতুল। সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সার পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবতা তার উল্টো। ডিলারদের কাছে সঠিক সময়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না, আর যে সামান্য পরিমাণ মিলছে, তার দামও চড়া। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত, আর ফসলের ভবিষ্যৎ পড়েছে হুমকির মুখে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ একটি চিত্র—চুয়াডাঙ্গার সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, জেলার কিছু প্রভাবশালী পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এর ফলে কৃষকদেরকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, আর এই বাড়তি মুনাফা ঢুকছে সেই সিন্ডিকেটের পকেটে।
জেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি’র মোট ডিলার সংখ্যা ১৫৬ জন। অথচ দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদরের ডিঙ্গেদহ বাজারে আকবর আলী পরিবারের নামে রয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৭টি বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্স। শুধু তাই নয়, একই বাজারে হুদাবর ও হাবিবুর রহমানের পরিবারের নামেও একাধিক লাইসেন্স রয়েছে।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় অবস্থিত বারি মিয়া পরিবারের নামেও রয়েছে একাধিক সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্স। তিনি আবার বিএফএ (বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন) চুয়াডাঙ্গা জেলার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে, আলমডাঙ্গার হারুন অর রশিদের নামেও রয়েছে একাধিক লাইসেন্স।
এই ডিলাররা নিজেদের নামে কিংবা বেনামে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন শহর ও পৌর এলাকায়, অথচ ডিলার পয়েন্ট থাকার কথা ছিল ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে সারের প্রকৃত চাহিদা, সেখানে না রেখে তারা শহরে সারের চালান সরিয়ে নিচ্ছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন চ্যানেলে পাচার করছেন। এতে করে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে সার পৌঁছাচ্ছে না, আর কৃষক পড়ছেন চরম বিপাকে।
সারের সংকটের আরেকটি বড় কারণ ডিলার নিয়োগে দীর্ঘদিনের অনিয়ম। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তি ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যাদের কিছুজন বর্তমানে পলাতক বা মৃত, তাদের নামেও এখনও লাইসেন্স চালু রয়েছে। এতে করে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানিয়েছেন, সরকার সার ডিলার নিয়োগ এবং বিতরণ নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যদি এই নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে কৃষকেরা কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পাবে।”
তিনি আরও জানান, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং সারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
https://slotbet.online/