দীর্ঘ্য ৩ মাস অতিবাহিত হলেও ধরাছোয়ার বাহিরে মূল পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনে অংশগ্রহনকারীরা
খান মোঃ আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গত জুন মাসের ২৪ তারিখ রাত ১১:৩০ ঘটিকায় কুয়েট পকেট গেট সংলগ্ন নিজ বাসভবনের সামনে দাড়িয়ে মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় ফুলবাড়ী গেট থেকে মটর বাইকে আসা হেলমেট পরিহিত তিন জন আততায়ীর দ্বারা হত্যার শিকার হয় যোগীপোল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও ৩৩নং ওয়ার্ড যুবলীগ এর যুগ্ন আহবায়ক আরিফ হোসেন। তার বুকে ও মাথায় পরপর তিনটা গুলি করে হত্যাকারীরা বীরদর্পে পালিয়ে যায় খুলনা বাইপাস সড়ক হয়ে জিড়ো পয়েন্টের দিকে। আরিফের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে আড়ংঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আড়ংঘাটা থানার মামলা নং-১০, তারিখ-২৫/০৬/২০২৪ , ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
আড়ংঘাটা থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করে হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে সুজন সরকার নামে একজন আসামীকে আড়ংঘাটা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা হতে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে।
পরবর্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শলুয়া বাজার ও কুয়েট গেট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আড়ংঘাটা পাহাড়পুর এলাকার সোবাহান শেখের ছেলে ইমন শেখ (১৯) ও খানাবাড়ী কুয়েট গেট সংলগ্ন হাওলাদার মঞ্জিলের মৃত নান্নু শেখের ছেলে যোগীপোল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড এর বর্তমান মেম্বার মোঃ মামুন শেখ (৩৪) কে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তি ও প্রদত্ত তথ্যর ভিত্তিতে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ মোঃ রিয়াদ সানা(১৯), পিতা-মিল্টন সানা, ল্যাবরেটরী মোড়, আাড়ংঘাটা, খুলনা কে গ্রেফতার করে। রিয়াদ সানার তথ্য মোতাবেক আড়ংঘাটা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম নগরীর দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা গোলকধাম মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৯/০৭/২০২৪ রাতে আসামী বোরহান উদ্দিন (১৯), পিতা মোঃ শামিম মোড়ল, মহেশ্বরপাশা গোলকধাম মোড়, থানা-দৌলতপুর, খুলনা কে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেন এবং তার বাসার ২য় তলার একটি ট্রাংকের মধ্যে কাপড়ের তৈরি ব্যাগের ভিতর থেকে ০১ টি কাটা বন্দুক, ০১ টি ম্যাগজিনসহ বিদেশি পিস্তল, ১ টি ওয়ান শ্যুটার গান, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ২ টি খালি খোসা উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই আদালতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
তবে এলাকাবাসী ও আরিফের পরিচিতজনেরা মনে করেন হত্যার সাথে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত কিছু ব্যাক্তি বা সন্ত্রাসী গ্রেফতার হলেও ধরাছোয়ার বাহিরে ও আড়ালে থেকে যাচ্ছে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও কিলিং মিশনে অংশগ্রহনকারী বা মিশন সম্পন্নকারীরা। প্রসাশন যথেষ্ঠ সক্রিয়, তবে বিগতদিনের রাজনৈতীক সহিংসতা ও বর্তমানের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারনে তারা হয়তো ঠিক ভাবে কাজ করে উঠতে পারছেনা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিনহাজুল ইসলাম বলেন, আসামী গ্রেফতারের কাজ চলমান আছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারনে একটু সমস্যা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা এই হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত সকল আসামী, পৃষ্টপোশক ও পরিকল্পনাকারী-মদদদাতাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হব। গ্রেফতার করবো কিলিং মিশনে অংশগ্রহন করা ঐ তিন কিলারকেও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত অর্থই আরিফ হত্যার মূল কারন। ২ কোটি টাকা একটা বিষয়। আবার অনেকে মনে করেন, রাজনৈতীক গ্রুপিং এর কারনেও হতে পারে এই হত্যাকান্ড। এলাকায় আরিফের একটা ভালো জনপ্রিয়তা ছিলো এবং এই কারনেও হতে পারে এই হত্যা। ব্যবসায়ীক বিষয়টাও অনেকে তুলে ধরেন কারন নিজস্ব একটা অবস্থান থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে কুয়েটের একটা অংশ আরিফ নিয়ন্ত্রন করতো যেটা অনেকেরই মাথা ব্যাথার কারন ছিলো। তারা বলেন, মূল বিষয়টা হচ্ছে আরিফ থাকলে অনেকে অনেক কিছুই এখানে করতে পারছেনা যেটা আরিফের অনুপস্থিতে সম্ভবপর। স্থানীয়, রাজনৈতীক এবং ব্যবসায়ীক সর্বক্ষেত্রেই এই বিষয়টা অতিব জরুরী একটা বিষয় বলে এলাকবাসী ও বন্ধুমহল মনে করে। কথা প্রসঙ্গে আরো একটা বিষয় এখানে উঠে আসে যে, বেশ কিছুদিন আগে এখানে একটা হত্যা সংঘটিত হয় এবং এই হত্যা মামলায় আরিফ একজন স্বাক্ষী ছিলো, সেটাও ভেবে দেখার বিষয় বলে অনেকে মনে করেন। এলাকাবাসী জানান, তাছাড়া যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের ভেতর যারা গুলি করে আরিফ কে মেরেছে তারা কোথায়। আবার মূলত যারা এর মাষ্টারমাইন্ড তারাই বা কোথায়, আমরা তাদের দেখতে চাই, তারা কারা, যারা আরিফকে সড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলো। আবার আরেকটা বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানাযায় পূর্বের কোনো শত্রুতা থেকে সংঘটিত হয়েছে এই হত্যাকান্ড।
আরিফের পিতা বলেন, আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচারের জন্য প্রসাশনের দ্বারস্ত হয়েছি, আমি আশারাখি প্রসাশন সঠিকভাবে তাদের কর্ম পালন করবে এবং ইতি মধ্যে তা করেছেও, হয়তো দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, এছাড়া তারা আমাকে ভালো সহযোগীতা করছে। ৫ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে এবং বাকিরাও অতিশিঘ্রই গ্রেফতার হবে বলে তিনি আশাকরেন।
তিন ভাইয়ের মধ্যে আরিফ বড়। আরিফের দুইট ছেলের মধ্যে বড় ছেলেটার বয়স ১১ বছর ও ছোট ছেলের বয়স ৭, ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত থেকে যুবরাজনীতিতে নিজেকে সক্রিয় রাখে। আরিফের স্ত্রী কোনো কথা বলতেই রাজী হয়নি। ছেলে দুইটা এখনো তাকিয়ে থাকে কখন আসবে তার বাবা।
https://slotbet.online/