• রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জমকালো আয়োজনে দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন ও পেশাজীবী সাংবাদিক সোসাইটির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কৃষকদল নেতার মৃত্যু: ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, স্ট্রোকের দাবি জামায়াতের বিরলে ০৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতার যৌথ উদ্যোগে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সখীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার আসামি অন্তর আহমেদ গ্রেপ্তার বিরল উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু সখিপুর টাইগার ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় ব্ল্যাকমেইল চক্রের ফাঁদে ব্যবসায়ী, নগ্ন ভিডিও করে মুক্তিপণ দাবি

ভয়াবহ মাদক ফেন্সিডিল ইয়াবার সাম্রাজ‍্য তেলিয়াপাড়া চা বাগান 

মোঃ নজরুল ইসলাম খান, স্টাফ রিপোর্টার। / ২৭৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলছে ভয়াবহ সব মাদকের খোলামেলা কারবার।

ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও ভারতীয় মদের এক সাম্রাজ্য এই চা বাগানের শ্রমিক পল্লী। বাগানের প্রবেশ মুখের গেইটের দাড়োয়ান থেকে শুরু করে অধিকাংশ ঘরেই পাওয়া যায় ভয়াবহ মাদক ফেন্সিডিল ও ইয়াবা।

জনশ্রুতি আছে উক্ত বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও নিজেকে আওয়ামী যুবলীগের নেতা পরিচয় দানকারী খোকন পানতাতী প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মাদক কারবারিদের আশ‍্রয় ও মদদ দিয়ে আসছে। বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনকালে ন‍্যাশনাল টি কোং লিঃ এর ঐ বাগান তাদের চেয়ারম্যান শেখ পরিবারের শেখ কবির আহমদের প্রভাব দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ও সাধারণ সচেতন নাগরিকদের জিম্মি করে এই সিন্ডিকেট অবৈধ মাদক কারবার চালিয়ে আসছে। ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়ে নতুন এক দেশের এই প্রেক্ষাপটেও থেমে নেই এই অপরাধ চক্র।

সকাল থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত চলে অবৈধ ভয়াবহ মাদক ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি। সম্পূর্ণ খোলামেলা ভাবে চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। প্রতিদিন স্থানীয় মাদকসেবীদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মাদকসেবীরা আসছেন সিন্ডিকেটের তৈরি করা ‘ফেন্সিডিল, ইয়াবার সাম্ম্রাজ‍্যে’। ছোট বড় কমপক্ষে ২৫/৩০ টি মাদক বিক্রির সক্রিয় স্পট রয়েছে এই বাগানে। চিহ্নিত ও কূখ‍্যাত একজন কারবারি সন্তোষ পানতাতী। যার নিজ বসত ভিটা থেকে প্রতিদিন হাজারো মাদকসেবীর আনাগোনা থাকে। জায়গাটি যেন মাদকসেবী ও বিভিন্ন এলাকার মাদক বিক্রেতাদের এক অভয়ারন‍্য! প্রচলিত আছে, সভাপতি খোকন বলে থাকেন,”এইটা তার সাম্ম্রাজ‍্য, বাংলাদেশের বাইরে আরেক দেশ, যেখানে সে ও তার অন‍্য সিন্ডিকেট সদস‍্যরা যা চায় তাই করতে পারে!” তার এই উক্তির সত‍্যতা মেলে বাগান এলাকায় প্রবেশ করলেই। যেখানে শুধু মাদকসেবীদের অবাধ বিচরন আর মাদক সেবন। এক সময় যে জায়গা থাকত পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর, দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকায় চলছে অবাধ মাদক কারবার ও সেবন যার ফলে সেখানে শুধু বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ফেন্সিডিল আর ইয়াবাসেবীদের আসা যাওয়া, যাদের মধ‍্যে অনেকে বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ভয়ংকর অপরাধী। সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি আসছেন মাদকক্রেতারা। কেউ আসছেন মোটর বাইকের মহড়া সাজিয়ে, কেউ আসছেন সিএনজি অটোরিকশা অথবা প্রাইভেট কার নিয়ে। এলাকার সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায় ফেন্সিডিলের খালি বোতল, এখানে সেখানে, মসজিদ, মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ আবার সেবন করছেন ফেন্সিডিল। সন্তোষের বসত ভিটা প্রাঙ্গনে থাকে তার গ‍্যাং এর অন‍্যান‍্য গুরুত্বপূর্ণ সদস‍্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী ফেন্সিডিল ও ইয়াবাসেবীদের আস্তানা। চা শ্রমিক বস্তির বিভিন্ন ঘরে বসে সাধারন ইয়াবাসেবীদের আড্ডা। সন্তোষের মাদক গ‍্যাং এ কাজ করে ঐতিহ্যগত ভাবে চা শ্রমিক সম্প্রদায় থেকে আসা দরিদ্র নিম্ম আয়ের আনুমানিক ১০-১৫ জন যুবক। যারা শুধুমাত্র টাকার জন‍্য জীবন বাজী রেখে সীমান্ত থেকে এইসব অবৈধ মাদক আনা থেকে ক্রেতা পর্যন্ত পৌছে দেয়ার কাজ করে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সন্তোষ পানতাতীর প্রতিদিন সকাল-সন্ধ‍্যা খুচরা মাদক বিক্রির পাশাপাশি বড় চালান যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। দেখার যেন কেউ নেই!

সন্তোষের প্রধান সেনাপতি হিসেবে খ‍্যাত তার ভগ্নিপতি সন্ত্রাসী অসীম পানতাতী ওরফে তুফান। যার অসংখ্য কু-কর্মের গল্প লোক মুখে প্রচলিত আছে। তার পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের এক চা বাগান বস্তিতে। ২০২২ সালের ২২ মার্চ, হবিগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানে অবস্থিত সন্তোষের বাড়িতে ফেন্সিডিল বিক্রির পিক আওয়ারে তাকে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার করে এবং হাতকড়া পড়িয়ে আনুমানিক ৩০ গজ দূরত্বে আসার সাথে সাথে সভাপতি খোকনের ইন্ধনে সন্তোষ পানতাতীসহ পুরো গ‍্যাং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা,কর্মচারীদের উপর। তাদেরকে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া সহ পালিয়ে যায় তুফান।

গোপন অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন দুইবার করে পার্শবর্তী ভারত থেকে শুধু খুচরা ক্রেতাদের জন‍্য ফেনসিডিল আসে ২৫০-৩০০ বোতল। সন্তোষ ও খোকন তার নিজ সম্প্রদায়ের অশিক্ষিত, দরিদ্র অনেকের কাছে দেবতা সরূপ। কারন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে সে তার উপার্জনের কালো টাকা দান করে ঐসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ‍্যে আর বিনিময়ে খুব সহজে তাদের ব‍্যবহার করে তার চোরাকারবারে , যুবকদেরকে তার মাদকচোরাকারবার চক্রে চাকুরী দিয়ে তারা হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় ও আরো শক্তিশালী। অনেকটা কুখ‍্যাত ‘কলম্বিয়ান ড্রাগ মাফিয়া পাবলো এসকোবার ‘ এর মত!

উপজেলার অন‍্য সাধারন মানুষের কাছে ঐ এলাকা রিতিমত এক আতঙ্কের জায়গা। আর সাধারন চা শ্রমিকদের এক রকম জিম্মি করে ঐ সিন্ডিকেট ছড়িয়ে রেখেছেন তার কারবার। যদিও তার নিজ বসত ভিটা মূল বিক্রয় ও সেবন কেন্দ্র, কিন্তু আশেপাশের সব ঘরেই অবাধে মিলছে সর্বনাশা ঐসব মাদকদ্রব‍্য। কারবারের মূলহোতা সিন্ডিকেট একই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/