খান মোঃ আতিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গতকাল সকালে কিছু শিক্ষার্থী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার ডাঃ মোস্তফা কামালের সহযোগীতায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আকতারুজ্জামান কে জোর পূর্বক ৫০ জন ডাক্তারের নাম সম্বলিত একটি তালিকাতে স্বাক্ষর করায় যেখানে উক্ত ৫০ জন ডাক্তারকে অবাঞ্চিত ঘোষনা ও তাদেরকে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে না আসার নির্দেশ থাকে। এরপর তাকে পদত্যাগে বাধ্য করানো হয়। এরই কারনে সেই সমস্ত ডাক্তাররা আজকে ভয়ে তাদের কর্মস্থলে যোগদান করেনি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম এবং সেবা নিতে আসা ও ভর্তি রোগিদের পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। সেবা নিতে আসা বেশীর ভাগ রোগিকেই ফিরে যেতে হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। যারা কর্মরত আছেন তারাও আছেন চরম ভয় ও নিরাপত্তা হিনতায়। যে সমস্ত ডাক্তারদের কে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে তাদের বেশীর ভাগই বহির্বিভাগের কর্মরত ডাক্তার বলে জানা যায়, আর এর জন্যই বহির্বিভাগ রয়েছে প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায়। ডাক্তার সল্পতা ও না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাও পাচ্ছে না তাদের কাঙ্খিত সেবা, বরংচ স্ব-জনরা তাদের রোগিকে নিয়ে আছে চরম বিপাকে, দূর্ভোগে ও হতাশায় হতে হচ্ছে হয়রানি। পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।
রোগীরা জানান, আমরা সাধারন ও গরীব মানুষেরাই আসি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটু কম খরচে চিকিৎসা নেবার জন্য। কিন্তু এখানে এসে যদি দেখি ডাক্তার নাই তাহলে তো আমাদের মতো মানুষেরা বাচবেনা। আমাদের তো অত টাকা নাই যে ক্লিনিকে যেয়ে অতিরিক্ত খরচ করবো। সরকারী হাসপাতাল তো গরীবদের হাসপাতাল আর গরীবদের নিয়েই সবাই খেলা করে। এই যে দেখেন, টেষ্ট করতে এসেছি অথচ করাতে পারছিনা, কেও নাই। আউটডোরেও বলে আজ হবেনা। তাহলে আমরা কোথায় যাবো। অন্য একজন মুরুব্বি রোগী বলেন, আমি আসছি অনেক দূর থেকে। তিনদিন আগে ডাক্তার দেখিয়েছিলাম, আজ আসছি রিপোর্ট দেখিয়ে ঔষধ নিয়ে যাবো কিন্তু ডাক্তার নাই, কখন আসবে, কবে আসবে কেও বলতে পারেনা। সাধারন মানুষ তো এখন ভোগান্তিতে আমরা।
এই খবর পেয়ে দুপুরের দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিছু নেতারা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন এবং যেই ডাক্তার শিক্ষার্থীদের সাথে সহযোগীতায় ছিলেন তাকে খোজ করে না পেয়ে চলে যায় এবং পরবর্তীতে আসবেন বলে জানিয়ে জান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর নের্তৃবৃন্দরা ও মেডিকেল কলেজে আসেন এবং এই ধরনের কোনো কর্মকান্ড ও অরাজকতায় তাদের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাকে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে চান।
এর প্রভাব খুলনা মেডিকেল কলেজ এর শিক্ষার্থী ও ডাক্তারদের মাঝেও পরিলক্ষিত হয়। তারাও ভয়ে ও নিরাপত্তাহীনতায় না আসছে কেও ক্লাস করতে আর না আসকে কেও ক্লাস নিতে। একদিকে হাসপাতাল এর পরিচালক রয়েছে ভয়ে পলাতক অন্যদিকে উপ-পরিচালককে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছে পদত্যাগে।
সূত্র মারফত জানাযায় গতকাল এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কিছু সংখ্যক ডাক্তার ও মেডিকেল কলেজ এর অধ্যয়নরত ছাত্ররা শরনাপন্ন হন খুলনা বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য এর দপ্তরে। সেখানে পরিচালক ডাঃ মন্জুরুল মোর্শেদ নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কে বিষয়টি অবগত করেন এবং তিনি তাদেরকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
https://slotbet.online/