তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে ধারাবাহিক মত বিনিময়ের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আজ ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন স্বৈরাচার পতন গনতন্ত্রকামী জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের বিজয়। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, নিকট অতীতে স্বৈরাচার ছিল দৃশ্যমান গণ নিপিড়নকারী আর এখন স্বৈরাচারের দোসররা অদৃশ্য শক্তিরূপে জনতার বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে- দৃশ্যমান প্রতিপক্ষের চাইতে অদৃশ্য শত্রু অনেক বেশি ভয়ংকর। দৃশ্যমান প্রতিপক্ষকে আমরা চিনি,তাদের আক্রমণের ধরনও আমাদের পরিচিত কিন্তু অদৃশ্য শত্রুরা অচেনা আর সর্বত্র, তাদের অবস্থান অন্ধকারে আর তাদের কৌশলও চোরাগোপ্তা। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তৃণমূল সতর্ক নজরদারি রাখলে কোন ষড়যন্ত্রকারীই দলের সুনাম ক্ষুন্ন করতে পারবে না বলেও তিনি নিশ্চিত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন । একই সাথে তিনি দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সকল অদৃশ্য ও দৃশ্যমান শক্তিকে প্রতিহত করতে তৃনমূলকে সজাগ, ঐক্যবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ সর্তক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
শুক্রবার গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশে নজিরবিহীন গুমের ঘটনায় লাখ লাখ দেশবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এটি প্রয়োগ করা হয়। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে জনসমাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। নির্ভরযোগ্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো একযোগে প্রকাশ করেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গুম করেছে। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক, আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই নিখোঁজ মানুষগুলো ছিলেন তাদের পরিবারের প্রাণপ্রিয় সদস্য। তাদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অদৃশ্য মানুষগুলো কোথায় আছে আমরা জানি না, তবে রেখে গিয়েছে মর্মান্তিক ও বেদনাবিধুর বাংলাদেশ, যেখানে আমাদের অর্জিত মানবাধিকার ও মূল্যবোধ লুণ্ঠিত হয়েছে। গুম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। আইসিসি এর রোম সনদের ৭ (২) অনুচ্ছেদে গুমকে মনবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, আর মানবাধিকারের এই লঙ্ঘনের জন্য ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীতার ওপর জোর আরোপ করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসে আমরা রাজনৈতিক দর্শন, জাতি, ভাষা, নৃগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, বর্ণ ইত্যাদিসহ রাষ্ট্রীয় সীমানাকে অতিক্রম করে গুম হওয়া মানুষগুলোর স্মরণে এবং সেই সাথে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য দিবসটি পালন করি।
এই ‘মনুষ্যত্বহীন অপরাধে’ জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান তারেক রহমান।
বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আমার দলের পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে, বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য, আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করব, ইনশাআল্লাহ। মানবতার বিরুদ্ধে এই গুরতর অপরাধের ন্যায়বিচার হতেই হবে।’
https://slotbet.online/