সেলিম মাহবুবঃ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নাম করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপন করেছে ছাতকের পাপলু মিয়া নামের এক প্রতারক। নিজের ঘর-বাড়ি ফেলে মা-বাবা সহ পরিবার-পরিজন নিয়ে গা ঢাকা দেয়া প্রতারক পাপলু মিয়াকে খোঁজে বেড়াচ্ছেন প্রতারিত হওয়া লোকজন।
স্থানীয় সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারিত হওয়া লোকজন প্রতারক পাপলুর খোঁজে ছাতকে এসে তার গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। কিন্তু তাকে না পেয়ে রিক্ত হস্তে ফিরে যেতে হচ্ছে এসব হতভাগা লোকজনদের। বুধবার সুদুর বরিশাল থেকে এমনই এক ব্যক্তি পাপলুর খোঁজে এখানে এসে টাকা উদ্ধারে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা চেয়েছেন। প্রতারক পাপলু ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়েনের শারপিন নগর-টিলাগাঁও গ্রামের আছকির আলীর পুত্র। পাপলুর খোঁজে আসা বরিশালের ঝালকাটি উপজেলার নলসিটি ইউনিয়নের বৈশাখালী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুবাই প্রবাসী তার এক নিকটাত্মীয়ের সাথে বাংলাদেশেী হিসেবে পাপলু মিয়ার ভাই শিপলু মিয়ার দুবাইয়ে পরিচয় হয়। আর শিপলু মিয়া দেশে থাকা তার ভাই প্রতারক পাপলু মিয়ার সাথে মোস্তাফিজুর রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এতেই পাপলু-শিপলুর গ্রতারনার ফাঁদে পা দেয় মোস্তাফিজুর রহমান। এক পর্যায়ে ইউরোপের একটি দেশে পাঠানোর নামে কয়েক কিস্তিতে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয় পাপলু। বুধবার পাপলুর খোঁজে এসে তার গ্রামের বাড়িতে যায় মোস্তাফিজুর সহ লোকজন । সেখানে ফাউন্ডেশন করা পাপলুর চালা বিহীন একটি ঘর ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায়নি। পাশের গ্রামে থাকা পাপলুর আপন চাচা দুবাই প্রবাসী ফারুক আহমদ জানান, পাপলুর পরিবারের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি শুনেছেন মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে পাপলু। স্বজন হিসেবে পাপলুকে খোঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করবেন তিনি।
এরজন্য তিনি এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। পাপলুর বাড়ি সংলগ্ন তার আরেক চাচা ভাই জহুর উদ্দিন ফকির জানান, পাপলুর চলাফেরা দেখে মনে হয়েছে সে আলাদীনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেছে। মন্ত্রী-এমপিদের মতো রাজার হালে চলাফেরা। তার প্রতারনার সাথে পাপলুর ভাই দুবাই প্রবাসী শিপলু ও তার মা-বাবা জড়িত বলে তিনি মনে করেন। তারা কেউ পাপলুর ঠিকানা দিতে পারেননি। এ ছাড়া দালাল পাপলুর খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন ছাতক শহরের বৌলা গ্রামের বাসিন্দা আয়না মিয়ার পুত্র জামিল মিয়া। টাকা-পয়সা খুইয়ে এখন পাগলের মতো মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন জামিল মিয়া ও তার পিতা আয়না মিয়া। জামিল মিয়াকে ফ্রান্স নেয়ার কথা বলে ৫লক্ষ ৮০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ১৪ লক্ষ টাকা কন্ট্রাক ছিল তার সাথে। কিন্তু অসংঘতিপূর্ন কথাবার্তা সন্দেহ হলে বাকী টাকা না দিয়ে পাপলুকে টাকা ফেরত দিতে চায়। পরে পাপলু মোবাইল সিম পরিবর্তন করায় তার সাথে আর যোগাযোগ করতে পারেনি জামিল মিয়া। বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই প্রবাসী শিপলু ও দেশে থাকা তার ভাই প্রতারক পাপলু এভাবে বহু মানুষের লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে বলে তার গ্রামের একাধিক লোকজন জানিয়েছেন। তারা আরো জানান, পাপলু- শিপলু দুই ভাই আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সাথে জড়িত।##
https://slotbet.online/