শাহাদাত কামাল শাকিল :
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নোয়াপড়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলার মফিজুল ইসলাম ছেলে ও মেয়ের উপর হামলার ঘটনায় বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা দিলেন ভুক্তভোগী পরিবার।
(১৫ জুলাই ২০২৪) সোমবার আব্দুল মান্নানের পরিবার জানায়,পূর্ব শত্রুতা জেরে দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির প্রবাসী জাহাঙ্গীর ও মফিজুল ইসলামের সাথে জায়গা সম্পত্তি বিরোধে জেরে হামলা শিকার হয় আব্দুল মান্নান ও ফাহিমা আক্তার।আব্দুল মান্নান কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন মেধাবী শিক্ষক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মফিজুল ইসলামের ছেলে হানিফ মিয়া বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। বাদি হানিফ ও তার ভাই আজিম মাহমুদ জানায়, পারিবারিক জায়গা সম্পত্তি জেরে অন্যান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শিক্ষক আব্দুল মান্নানের উপর হামলা চালায়। ষড়যন্ত্র করে প্রবাসী জাহাঙ্গীরের মেয়ে আব্দুল মান্নানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ধর্ষণের অভিযোগ তুলে।
এ নিয়ে গত ২ জুন ২০২৪,রবিবার রাতে সমাধানের লক্ষ্যে সমাজ সালিশে বসেন উভয় পক্ষ। ওই দিন উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং এক পর্যায়ে আব্দুল মান্নানের পরিবারে উপর হামলা চালায় প্রবাসী জাহাঙ্গীরের পরিবার ও তাদের লোকজন।এসময় আব্দুল মান্নান সহ তার বোন ফাহিমা আক্তার গুরুতর আহত হয়। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৫ মে ২০২৪ তারিখে রাত ৯ ঘটিকায় ওই স্কুল ছাত্রী আব্দুল মান্নানের কর্তৃক জোরপূর্বক ধর্ষণ হয়েছে এমন ঘটনা দেখিয়ে ধর্ষিতা মা নাছিমা আক্তার ৩ জুন ২০২৪ সোমবারে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে বাদি হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষিতা ছাত্রীর অভিযোগে ভিত্তিতে আব্দুল মান্নানকে আটক করে কুমিল্লা কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সে কারাগারে থাকা অবস্থায় কলেজের চাকারি হারান।এদিকে হামলা শিকার ও ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষে হানিফ মিয়া বাদি হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোর্টে একটি পাল্টা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন ১) মোঃ মঙ্গল (৪৮) পিতা মৃত- আবদুল মালেক,২) মোঃ পরান (২১),পিতা- জাহাঙ্গীর হোসেন,৩) বাসার মিয়া (২৫),পিতা- মালু মিয়া,৪) মোঃ সুমন মিয়া (৩০) পিতা- রাজ্জাক মিয়া,৫) মোঃ দুলাল (২৭) পিতা- জজু মিয়া, ৬) মোঃ জাফর (২৬) পিতা- রাজ্জাক মিয়া,মোহাম্মদ হোসেন (২১) পিতা- আলী আশ্রাফ,৮) আলী আশ্রাফ (৫০) পিতা- সর্দার আলী,৯) নাছিমা আক্তার (৪৫) স্বামী- জাহাঙ্গীর হোসেন সর্ব সাং- রাজাপুর (নোয়াপাড়া)। অভিযোগ সূত্রে জানা আরো জানা যায়,হামলার ঘটনার সাথে তারা জড়িত ছিল। তাদের কে আসামি করে মামলা দেয়ায় বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে।হানিফ মিয়া আরো জানায়, ওই দিন সমাজ সালিশে তাদেরকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়াতে আমার বোন ও ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়ে জখম করেছে এখন আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং মেয়েকে দিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আবারও ফাঁসানো চেষ্টা চালিয়ে আসছে।আমর ভাইকে মামলা দিয়ে চাকরি থেকে বহিস্কার করিয়াছে তবুও তারা থেমে নাই।তারা বলছে আমার ভাই জেল থেকে এসে তাদের মেয়েকে বিয়ে না করলে আরো বড় ধরণের ঘটনা ঘটাবে। আমার ভাই বিবাহিত কেন তাদের মেয়েকে বিয়ে করবে? আমরা আইনের কাছে সঠিক বিচার চাই। মেয়ের বাবা জাহাঙ্গীর বিদেশ থেকে এসে ঈদের পর সকল সমস্যা শেষ করে দিবে বলে এখন তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। তবে জানা যায় আদালতে উভয়ের মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হালিমা মানম জানায়,ধর্ষণের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং মেয়ে ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষার পর আদালতের মধ্যমে আমরা জানতে পারবো।এখন কিছুই বলতে পারছি না। শুনেছি মেয়ে নাকি অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
https://slotbet.online/