আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন: বৈধ পথে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৪৬ লাখ টাকা আদায়, বিদেশে নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি কথিত মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোহেল রানার (নিহত) স্ত্রী জেসমিন সুলতানা নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি আবেদন করেছেন। বাদীপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রুজুর নির্দেশ দেন।
পরিবারের অভিযোগ, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে সোহেল রানার কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে কাতার থেকে মিশর, সেখান থেকে বেলারুশ হয়ে ইউরোপে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশে রাজি না হওয়ায় এবং দেশে ফেরার চেষ্টা করায় তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের দাবি, সোহেল রানাকে দেশে ফেরাতে দুই দফায় বিমানের টিকিট কেনা হলেও তাঁকে ফিরতে দেওয়া হয়নি। পরে তাঁকে বেলারুশ থেকে লাটভিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ অবস্থায় একটি জঙ্গলে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর লাটভিয়ার একটি জঙ্গল থেকে অসুস্থ অবস্থায় সোহেল রানাকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে ১২ অক্টোবর। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে সোহেল রানাকে জিম্মি করে মারধর করা হতো। নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে তাঁর মুক্তির কথা বলে স্বজনদের কাছে বারবার টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোহেল রানার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—মোসাম্মৎ শামসুন নাহার, শাহজাহান সরকার, সোহাগ সরকার, নাসির সরকার, আব্দুর রাজ্জাক, তন্নী সরকার, সোহেল সরকার, রিয়াদ দেওয়ান ও শরীফুল সরকার।
একই গ্রামের আরও ১০–১২ জনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ
সোহেল রানার ঘটনা ছাড়াও একই গ্রামের আরও ১০ থেকে ১২ জনকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় একাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযোগগুলোর সঙ্গে সোহেল রানার ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, সোহেল রানার পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, সোহাগ সরকারের ভাড়াটিয়া লোকজন তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ০১৭৬২*৬৫ নম্বর থেকে জয় বাহাদুর পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
সোহেল রানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, মানবপাচার ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
https://slotbet.online/