• শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিরলে ০৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতার যৌথ উদ্যোগে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সখীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার আসামি অন্তর আহমেদ গ্রেপ্তার বিরল উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু সখিপুর টাইগার ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় ব্ল্যাকমেইল চক্রের ফাঁদে ব্যবসায়ী, নগ্ন ভিডিও করে মুক্তিপণ দাবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের শ্রদ্ধা নিবেদন নড়াইলে ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাঁটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত ঝিনাইদহে ২ টাকায় ইফতার বিতরণ কলারোয়ায় আমের মুকুলে চাষীদের বাম্পার ফলনের আশা

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের রেশন চিনি খোলা বাজারে- প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের স্বচ্ছতা

এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: / ৮৬ Time View
Update : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকি মূল্যের রেশন চিনি খোলা বাজারে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ঠাকুরগাঁওয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নামে বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ চিনি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই ‘ওপেন সিক্রেট’ কারবারটি সম্প্রতি জানাজানি হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সোমবার ২৩-ই ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস থেকে সরকারি দরে চিনি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এই নাটকীয়তার শুরু। মিল সূত্র জানায়, এদিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৫ টন, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ১১ টন এবং র‍্যাব ৬ টন চিনি উত্তোলন করে। এছাড়া শ্রমিক ও অন্যান্য সংরক্ষিত খাতের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২ টন।


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিল থেকে চিনি নিয়ে বের হওয়া তিনটি গাড়ির মধ্যে দুটি গাড়ি গন্তব্যে না গিয়ে মিল গেটের কাছের ‘মেসার্স টি এস ট্রেডারস’ নামক একটি দোকানের সামনে গিয়ে থামে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক সুগার মিলের ক্যাশিয়ার মো. শামীম রহমান। সেখানে ১০ মেট্রিক টন চিনি নামানোর সময় স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মেস ম্যানেজার এসআই মমিনুল ইসলাম এই বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তাদের দাবি, এটি অপরাধ নয় বরং ‘কৌশল’।

তাদের ভাষ্যমতে, মেসে অতিরিক্ত চিনি মজুত থাকায় এবং ফোর্সের সদস্যদের জন্য মাছ-মাংসসহ ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে এই চিনি খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, টেন্ডার ছাড়া সরকারি চিনি বাইরে বিক্রির ‘নজির’ আছে এবং মেস পরিচালনার স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

দোকান মালিক ও মিলের ক্যাশিয়ার শামীম রহমান সরাসরি জানান, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও মাঝে মাঝে তাদের বরাদ্দ করা পণ্য বিক্রি করেন। তিনি বলেন, “চিনির বাজারদরের সাথে সমন্বয় করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে এই কেনাবেচা হয়েছে। আমি না কিনলে তারা অন্য দোকানে বিক্রি করত।”

চিনি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সেটি কোথায় বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। প্রসাশন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র সিংহ জানান, “তারা চিনি নিয়ে যাওয়ার পর সেটি কোথায় কী করবে, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়।”

বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রেশনের চিনি খোলা বাজারে বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। কেউ যদি এমন অনিয়মে জড়িত থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/