বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৩৫/১ পোল্ডারের কুমারখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ দখল করে অবৈধ ইট, বালু ও খোয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মো. শাহীন ও মো. শাহামিয়া সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার ওপর মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযুক্ত শাহীনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ ও গাছ কাটারও অভিযোগ উঠেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে বাঁধের মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে সাধারণ পথচারীদের জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
এই অবৈধ দখলের ফলে সৃষ্ট ধুলোবালিতে পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রভাবশালীদের ভয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করতে না পারলেও প্রশাসনের নীরবতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না, ফলে জনমনে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বেড়িবাঁধের ওপর ব্যবসা বা অবৈধ স্থাপনা তৈরির কোনো আইনি সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জনস্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে উপজেলার সচেতন মহল অতিদ্রুত এই দখলদারিত্ব মুক্ত করে জনচলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/