তারিখ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ শরণখোলা (বাগেরহাট): বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকায় হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো এই অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। একদিকে তীব্র ঠাণ্ডা, অন্যদিকে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় এসব পরিবারে খাদ্য ও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বলেশ্বর নদের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদী প্রায় জনশূন্য। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে জেলেরা নদীতে নামতে পারছেন না। স্থানীয় জেলে হাসান শিকদার ও শফিকুল ইসলাম জানান, টানা চার দিন ধরে সূর্যের মুখ না দেখায় এবং তীব্র শীতের প্রকোপে তারা নদীতে যেতে পারছেন না। মাছ ধরতে না পারায় তাদের সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে স্থানীয় রায়েন্দা মাছ বাজারে দেশি মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাছ ব্যবসায়ী আ. জব্বার জানান, নদীর তাজা মাছের সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
এদিকে, উপজেলাজুড়ে এখন বোরো ধান ও আলু চাষের ভরা মৌসুম থাকলেও শীতের কারণে শ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না। ধানসাগর ইউনিয়নের চাষি ছগির চৌকিদার জানান, জমি প্রস্তুত থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, “তীব্র শীতে চারা তোলা বা রোপণ করলে ভাইরাসের আক্রমণ হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে চারা রোপণ না করার জন্য বোরো চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
শীতের প্রভাবে রায়েন্দা বাজারের ঘাট শ্রমিক থেকে শুরু করে ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের আয়ও তলানিতে ঠেকেছে। ঘাট শ্রমিকরা জানান, সকালে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসায় কাজ করা সম্ভব হয় না। কুয়াশার কারণে ঢাকা ও খুলনা থেকে মালবাহী গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় কাজের সুযোগ আরও কমে গেছে। ইজিবাইক চালক লোকমান হোসেন জানান, যাত্রী সংকটে দৈনিক মাত্র ২০০-২৫০ টাকা আয় দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালে গড়ে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন, যাদের অর্ধেকই সর্দি, কাশি ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
উপকূলীয় এই জনপদে শীতের প্রকোপ দ্রুত না কমলে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
https://slotbet.online/