বাগেরহাটের নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন এক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২টিতেই সদ্য বিএনপি’তে যোগ দেওয়া দুই সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়, আর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অস্বস্তি।
বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বাংলাদেশের মহাসচিব এবং ইতিপূর্বে চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-সরণখোলা) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সোমনাথ দে-কে। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং অতীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত সতেরো বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম আর জেল-জুলুম সহ্য করা স্থানীয় নেতাদের বাদ দিয়ে ‘নবাগত’দের প্রাধান্য দেওয়ায় জেলা বিএনপির শীর্ষ মহলে ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ’ শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম ও সাবেক সভাপতি এম এ সালাম তৃণমূলের এই ক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, বাগেরহাট-৪ আসনকে যেন কোনো ‘রাজনৈতিক পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
মনোনয়ন পাওয়া দুই নেতাই অবশ্য তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন:
কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল (বাগেরহাট-১) তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার ছবিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ‘সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ’ বলে অভিহিত করেছেন।
সোমনাথ দে (বাগেরহাট-৪) তিনি তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, ৫ আগস্টের পর তিনি জেল খেটেছেন এবং দল তাকে যোগ্য মনে করেই মনোনীত করেছে। যারা ‘চাঁদাবাজ ও জুলুমকারী’ তারাই এখন তার বিরোধিতা করছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের সুযোগে বাগেরহাট-৪ আসনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের পক্ষে বিশাল রোডশো ও প্রচারণার মাধ্যমে তারা জানান দিচ্ছে যে, রাজপথের ঐক্যে ফাটল ধরলে তার সুবিধা অন্য পক্ষ নিতে পারে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে বাগেরহাটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। ত্যাগী নেতাদের মানিয়ে নিয়ে ভোটের মাঠে সাধারণ মানুষের সমর্থন ধরে রাখা বিএনপির হাইকমান্ডের জন্য এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।
https://slotbet.online/