খুলনা জেলার রূপসা থানার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের অভিযোগ—দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও আন্দোলনসঙ্গীদের উপেক্ষা করে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কয়েকজনকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে, যা তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান সেখ, রূপসা থানা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, বলেন, “ষোলো বছর আমরা রাজপথে থেকে যেভাবে সংগঠনকে ধরে রেখেছি, সেই ত্যাগীদের বাদ দিয়ে হঠাৎ করে কিছু অচেনা মুখকে সামনে আনা হয়েছে। যাদের আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো ভূমিকা নেই, তারা কীভাবে নেতৃত্বে আসেন—এ প্রশ্ন তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে।”
নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব আবু জাফর দাদাভাই বলেন,“সংগঠনের কঠিন সময়ে যারা নির্ভরযোগ্য ছিলেন, আজ তাদেরই জায়গা দেওয়া হলো না। দলীয় অবস্থান নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন আছে, তাদের উপর ভরসা রেখে কমিটি গঠন করা হলে ইউনিয়নের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ইট–ভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নাসির ফকির বলেন,“শ্রমিকদের বাস্তবতার সঙ্গে এ কমিটির কোনো মিল নেই। তৃণমূলের মতামত নেওয়া হয়নি, আলোচনা হয়নি, পরামর্শও হয়নি। চাপিয়ে দেওয়া এ কমিটি আমরা গ্রহণ করি না।”
শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বাবু সেখ বলেন, “সুযোগসন্ধানীরা নেতৃত্বে চলে এলে সংগঠনের ক্ষতি অনিবার্য। মাঠের কর্মীদের শক্তিকে উপেক্ষা করলে ইউনিয়ন শ্রমিক দল দুর্বল হয়ে পড়বে। এই কমিটি প্রত্যাহার ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।”
বক্তারা একযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংগঠনের স্বার্থে বর্তমান কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ত্যাগী, সংগ্রামী, আন্দোলনের সময় রাজপথে থাকা পরীক্ষিত কর্মীদের নিয়েই শ্রীফলতলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন জরুরি।”
নেতারা জানান, বর্তমান কমিটি বহাল থাকলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে এবং তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
তাদের বক্তব্য—“তৃণমূলের মতামত ছাড়া কোনো কমিটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই পুনর্গঠনই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।”
https://slotbet.online/