পীর ছাহেব কিবলার আখেরী মোনাজাতে লক্ষ লক্ষ মুসল্লীর আমিন আমিন ধ্বনি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কমনা করে মোনাজাত। বাংলাদেশের অন্যতম অধ্যাত্মিক মারকাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফে ২ দিনব্যাপী বার্ষিক কেন্দ্রীয় ইছালে ছাওয়াব মাহফিলের শেষদিন রবিবার বাদ ফজর তালীম, তারবিয়াত, ফাতেহা শরীফ পাঠ, মোরাকাবা, মোশাহিদা, জিকির, আসকার , মিলাদ, ক্বিয়ামের মধ্যেমে আখেরী মোনাজাতে বর্তমান পীর সাহেব ক্বিবলা হযরত মাওলানা মুফতি আলহাজ্ব সৈয়দ ছালেহ আহমাদ মামুন আল হোসাইনী বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, রহমত এবং কবরবাসী মুসলমানের রূহের মাগফিরাত কামনা অশ্রুসিক্ত নয়নে কান্না জনিত কন্ঠে লাখো মুসল্লীর আমিন আমিন ধ্বনির মধ্যে আবেগপূত হয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। এ সময় লক্ষ-লক্ষ ভক্ত মুরিদান আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাতে কান্নাকাটি আর আল্লাহুম্মা আমিন, আমিন ধ্বনিতে মাহফিলের চতুর্দিক মুখরিত হয়ে উঠে এবং এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা সৃষ্টি হয়।
এর আগে পীর সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান নসিয়ত পেশ করে বলেন, একজন মুসলমান ঈমান আনার পর জান্নাত পাওয়ার জন্য তার প্রধান কাজ হচ্ছে নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত সহ ইসলামী শরীয়তের পূর্নাঙ্গ অনুসরণ ও আমল করা। আর জান্নাতের মালিক আল্লাহ ও তার রাসূলকে পাওয়ার জন্য অবশ্যই ইলমে মা’রিফত তথা তরিকতের ময়দানে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করতে হবে। যার দৃষ্টান্ত প্রমাণ হল আমার বাবা মোজাদ্দেদে জামান শাহ্ সূফী আলহাজ্ব সৈয়দ নাছিরুল হক মাছুম (রহঃ)। তিনি বলেন, আমার বাবা বলতেন এই দরবার হলো সকল মুসলিম উম্মাহর জন্য উন্মুক্ত। এই দরবারে এসে যাদের আক্বিদা ভাল না, তাদের আক্বিদাকে ভাল করবে এবং যাদের আমল ভাল না তাদের আমল ভাল পরিবর্তন করে আল্লাহ ও তার রাসুল ( সাঃ) এবং আউলিয়ায়ে ক্বেরামের আদর্শের মধ্যে জীবনকে পরিচালনা করে হাশরের ময়দানে আমার নবীর উম্মতের নাজাতী সংখ্যা বৃদ্ধি করা। দুইদিন ব্যাপী উক্ত ইছালে ছাওয়াব মাহফিলে দেশের বিশিষ্ট পীর, মাশায়েখ, ইসলামী চিন্তাবিদ আলেম- উলামা বুজুর্গানে দ্বীনগনের মধ্যে কোরআন – সুন্নাহভিত্তিক ওয়াজ করেন, মৌকারা দরবার শরীফের পীর আলহাজ্ব মাওলানা নেছার উদ্দীন, ওয়ালী উল্লাহী, শামছুল উলাম আল্লামা ছাহেব কিবলা ফুলতলী (রহঃ) এর ছোট ছাহেবজাদা বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা হুছাম উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, আলহাজ্ব মাওলানা তাজুল ইসলাম চাঁদপুরী, মাওলানা নেছার আহমেদ চাঁদপুরী, মাওলানা এ সালাম, মাওলানা হাসান আজহারী, মাওলানা আলাউদ্দিন জিহাদী, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আশেকী, মাওঃ সৈয়দ জাকারিয়া আহমাদ, মাওলানা মোশাহিদ আহমেদ, মাওলানা মুফতী নাজিম উদ্দীন মাছুমী, মাওলানা শাহ আলম মাছুমী, মাওঃ হাফেজ আব্দুর রহমান, মাওলানা গাজী আব্বাস উদ্দীন, সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।
২ দিনব্যাপী বিশাল এই মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, পীরজাদা আল্লামা মুফতি আলহাজ্ব সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমদ, পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ বাকের মোস্তফা।
https://slotbet.online/