আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজার এলাকায় একসঙ্গে ৫–৬টি বন্যপ্রাণী হুনুমান লোকালয়ে প্রবেশ করে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ওই দল থেকে একটি হুনুমান পাশের একটি ভবনের ছাদ পারাপারের সময় বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে আহত হয়। বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার পর হুনুমানটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন। সংবাদকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি বন বিভাগ–কে জানালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকটা সময় পর দুপুর ১টার দিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাত্র দুজন স্টাফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা হলেন মারুফ হাসান ও ইসরাইল। ঘটনাস্থলে এসে তারা জানান, আহত বন্যপ্রাণী উদ্ধারে বা চিকিৎসা প্রদানে তারা দক্ষ নন। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যদি তারা এ বিষয়ে দক্ষ না হন, তাহলে কেন তাদের পাঠানো হলো? আহত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর দায়িত্ব তাহলে কার?
পরবর্তীতে ঝিনাইদহ বন বিভাগের কর্মকর্তা জাকির হোসেন–এর সঙ্গে পুনরায় আবারও যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি এবং মিটিং শেষ করে বিষয়টি দেখছি।
এদিকে সকাল ১১টায় আহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা উদ্ধার ব্যবস্থা না হওয়ায় হুনুমানটির অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চিন্তা বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে ঝিনাইদহ সদর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর–এর ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. মাজেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আহত হুনুমানটিকে প্রাথমিক দূর থেকে দেখেন এবং
শেষে ডা. মাজেদ জানান, প্রাণীটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। আরও কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখলে এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, হুনুমান একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। আইন অনুযায়ী আহত বা বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণীর উদ্ধার ও চিকিৎসার দায়িত্ব বন বিভাগের। তবে এই ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বিলম্ব নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার টিম গঠন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/