আজাদ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি –
আজ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটের আগের দিন ঝিনাইদহ শহরজুড়ে দেখা গেছে সতর্কতা, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির সমন্বিত চিত্র। পুরো শহরজুড়ে একদিকে প্রশাসনিক তৎপরতা, অন্যদিকে ভোটারদের মাঝে প্রত্যাশা ও আগ্রহ—সব মিলিয়ে বিরাজ করছে ভিন্ন এক আবহ।
সকালের সূর্য ওঠার পর থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পোস্ট অফিস মোড়, আরাপপুর, হামদহ, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, পায়রা চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে মোবাইল টিম টহল জোরদার করেছে। সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি ও কৌশলগত পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকালের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো আগামীকাল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে দিনভর চলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রিজাইডিং অফিসার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে নিজ নিজ কেন্দ্রে রওনা হয়েছেন। নির্বাচন অফিস প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।
নির্ধারিত সময় শেষে প্রচারণা বন্ধ থাকায় শহরে নেই মাইকিং বা শোডাউনের দৃশ্য। তবে বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে এখনো প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য প্রচার থেকে বিরত থাকলেও কৌশলগত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। চায়ের দোকান, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চলছে ভোটকে কেন্দ্র করে প্রাণবন্ত আলোচনা। কেউ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন, কেউ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলছেন। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মাঝে রয়েছে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দের অনুভূতি।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝিনাইদহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজ, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার, ভোটের আগের দিন ঝিনাইদহ শহরে একদিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক উৎসবের প্রতীক্ষা—এই দুই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন সবার চোখ আগামীকালের ভোটগ্রহণের দিকে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণতান্ত্রিক এই আয়োজন সম্পন্ন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলার মানুষের।
https://slotbet.online/