বাগেরহাটের শরণখোলায় এক অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেলে রায়েন্দা ইউনিয়নের ভোলার পাড় এলাকায় মালেকের মাদ্রাসার সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত যুবক মোঃ নজরুল ইসলাম (চৌকিদার) ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত ইস্কান্দার আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইসমাইল হাওলাদার, খলিল, কুদ্দুস, মিরাজ, মুসা ও রহিমসহ ১০-১৫ জনের একটি দল নজরুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও লোকভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান:
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি (সোমবার) দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে শরণখোলা থানার এসআই লোকমানের নেতৃত্বে একটি টিম নজরুলের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযুক্ত কুদ্দুস ও মিরাজ দাবি করেছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে, মাদ্রাসার একটি কলাগাছ কাটা নিয়ে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে নজরুলের তর্ক হয়। একপর্যায়ে নজরুল লাঠি দিয়ে আঘাত করে ইসমাইলকে পুকুরে ফেলে দেন। এই খবর শুনে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুলের ওপর হামলা চালান। ইসমাইল হোসেনও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব শামিনুল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
https://slotbet.online/