সাভারের রাজাশন ঘাস মহল এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ‘রহমান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ড্রাইং কারখানা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স, ইউটিপি (Effluent Treatment Plant) অনুমোদন এবং এ্যানোসিড লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু বিপজ্জনক ও দাহ্য কেমিক্যাল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় এ্যানোসিড লাইসেন্স তাদের নেই। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তারা বাইরে থেকে বোতলজাত গ্যাস (গ্যাস সিলিন্ডার) এনে কারখানার ভেতরে ড্রাইং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কোনো ধরনের অনুমোদন, নিরাপত্তা পরিকল্পনা বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। কারখানার ভেতরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, জরুরি বহির্গমন পথ, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী কিংবা গ্যাস ব্যবহারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে দাহ্য গ্যাস ও কেমিক্যাল ব্যবহার এলাকাবাসীর জীবনকে চরম বিপদের মুখে ফেলেছে। এ বিষয়ে কারখানার ম্যানেজার মাহফিজুর রহমান সোহেল স্বীকার করে বলেন, তাদের কারখানার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, ইউটিপি কিংবা এ্যানোসিড সংক্রান্ত কোনো অনুমোদনই তাদের কাছে নেই। আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত) অনুসারে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা সম্পূর্ণ বেআইনি। একইভাবে, ফায়ার সার্ভিস আইন, ২০০৩ অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়া কোনো কারখানা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি এ্যানোসিড আইন অনুযায়ী বিপজ্জনক, দাহ্য ও ক্ষয়কারী কেমিক্যাল সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স থাকতে হয়। এসব আইন লঙ্ঘনের জন্য কারখানা সিলগালা, মোটা অঙ্কের জরিমানা, এমনকি দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার বিধান রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাইং কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্য ও দূষিত পানি ইউটিপি ছাড়া সরাসরি পরিবেশে ফেললে তা মাটি, পানি ও বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত করে। এর ফলে এলাকার কৃষিজমি, জলজ প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে কারখানাটি বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে কারখানাটি বন্ধ, বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, এটি শুধু পরিবেশ দূষণের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সম্ভাব্য “মরণফাঁদ”। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটলে অসংখ্য প্রাণহানি হতে পারে। তাই মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রাইং কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
https://slotbet.online/