এম এ মোমিন, ক্রাইম রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং সেবাগ্রহীতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নামজারির (মিউটেশন) জন্য দাবি করা ঘুষের সম্পূর্ণ টাকা না পেয়ে আবেদন বাতিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রভাবশালী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গত ২৩- শে জানুয়ারি শুক্রবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় ভুল্লী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া কলোনিপাড়া এলাকার কাজিমা আক্তার তার ভোগদখলীয় জমির নামজারির আবেদন করলে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রমাণের জন্য তিনি একটি কাগজে পেন্সিল দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর লিখে দেন। হয়রানি এড়াতে ভুক্তভোগী পরিবার ওই নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান। তবে বাকি ৩০ হাজার টাকার জন্য তহশিলদারের ব্যক্তিগত সহকারী মাজেদুল চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। অবশিষ্ট টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তহশিলদার “জমিতে দখল নেই” মর্মে একটি মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে নামজারি আবেদনটি বাতিল করে দেন।
আবেদন বাতিলের পর ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দিলে অভিযুক্ত তহশিলদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগী নুরে আলম সুজনের অভিযোগ, অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রকাশ্যে ও ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তিনি গত সপ্তাহে ভুল্লী থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন।
তহশিলদারের বিরুদ্ধে শুধু ঘুষ নয়, সরকারি রাজস্ব আত্মসাতেরও অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। রুবেল হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ৩.৫ একর জমির খাজনা দেওয়ার জন্য তহশিলদার ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করলেও মাত্র ২৫০০ টাকার রশিদ ধরিয়ে দেন তিনি। বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
এছাড়া ইসমাইল ও খোকন নামে আরও দুই ব্যক্তি জানান, টাকা না দিলে এই ভূমি অফিসে কোনো ফাইল নড়ে না এবং পিয়ন থেকে শুরু করে তহশিলদারের বিশেষ সহযোগীদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ আত্মপক্ষ সমর্থন না করে বলেন, “ডিসি স্যারের অনুমতি ছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা আমাদের নিষেধ। আমার কোনো বক্তব্য নিতে হলে আগে স্যারের অনুমতি নিয়ে আসুন।”
ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
https://slotbet.online/