মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য বীর সন্তানের মধ্যে নাগরপুর উপজেলার দুই কৃতি সন্তান শহীদ এ কে এম শামসুল হক ও শহীদ আব্দুল কালাম শামসুদ্দিন ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। তাঁদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
শহীদ এ কে এম শামসুল হক (১৯৩৪–১৯৭১) ছিলেন সিভিল প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম শহীদ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কুমিল্লা সার্কিট হাউজ থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ৩০ মার্চ তাঁকে নির্মমভাবে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য তিনি নিজের অবস্থান ও অস্থাবর সম্পদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। শহীদ এ কে এম শামসুল হক সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পাকশিয়া ইউনিয়নের নিবাসী ছিলেন।
অন্যদিকে শহীদ আব্দুল কালাম শামসুদ্দিন (১৯৪৩–১৯৭১) ছিলেন সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের একজন সাহসী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা করায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রোষানলে পড়েন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৯ মে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শহীদ আব্দুল কালাম শামসুদ্দিন নাগরপুর উপজেলার গরহাটা ইউনিয়নের অধিবাসী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এই দুই শহীদের আত্মত্যাগ শুধু নাগরপুর নয়, সমগ্র জাতির জন্য গৌরবের। তাঁদের রক্তের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের জীবনকথা তুলে ধরা এবং যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করাই হবে তাঁদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
https://slotbet.online/