সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্ট এলাকা থেকে পর্যটক অপহরণ ও ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল হোতা ‘রাঙ্গা বাহিনী’র প্রধান মাসুম মৃধাকে (২৩) বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ধানখালী এলাকা থেকে তাকে আটকের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
কোস্টগার্ড জানায়, মাসুমকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩টি ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রের বিশাল মজুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপহৃতদের ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়িও উদ্ধার করেছে বাহিনীটি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জানুয়ারি। বিকেলে সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকা থেকে পর্যটক ও রিসোর্ট মালিকসহ ৭ জনকে অপহরণ করে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এই দস্যু চক্রটি। আধুনিক ড্রোন সার্ভিলেন্স ও ‘ফাইন্যান্সিয়াল ফুটপ্রিন্ট’ অনুসরণের মাধ্যমে কোস্টগার্ড ও যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে শেষ পর্যন্ত অপহৃত পর্যটক সোহেল, জাহিদুল ও রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এই অপহরণ ও দস্যুতার সাথে জড়িত থাকার দায়ে বাহিনীর প্রধান মাসুমসহ তার সহযোগী কুদ্দুস, সালাম, আলম, ইফাজ, মেহেদী ও মহারাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের অভিযোগে মাসুমের মা জয়নবী বিবি ও বিকাশ এজেন্ট অয়ন কুন্ডুকেও নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বনের গহীনে নিয়ে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল দস্যুরা। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক বছরে তারা বিপুল অস্ত্রসহ ৪৯ জন ডাকাতকে আটক ও ৫২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত দস্যুদের জব্দকৃত আলামতসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
https://slotbet.online/