আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন :ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় শিউলি খাতুন নামে এক ডিভোর্সি নারীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধারাবাহিক মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় একটি বিএনপি-সমর্থিত পরিবার চরম হয়রানির শিকার বলে দাবি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে একাধিক ধনাঢ্য ও সম্মানিত পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শৈলকুপা উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সদস্য সচিব খোন্দকার কামরুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি শিউলি খাতুনের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মানসিক নির্যাতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে খোন্দকার কামরুজ্জামান জানান, শিউলি খাতুন তার ছেলে নাজমুলের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। মামলা খারিজের পর শিউলি খাতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের পরিবারকে জড়িয়ে একের পর এক মানহানিকর পোস্ট দিতে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসতে চাইলে শিউলি খাতুন ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক শান্তির কথা বিবেচনা করে টাকা না দিয়ে ২০২৫ সালের ৭ মে নাজমুলের সঙ্গে শিউলির বিয়ে দেওয়া হয়।
বিয়ের ছয়-সাত মাস পর শিউলি খাতুন ঝিনাইদহ শহরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে নাজমুলকে সেখানে নিয়ে বসবাস শুরু করেন এবং তাকে শৈলকুপায় আসতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার জীবনযাপন ছিল অস্বাভাবিক—কোনো দৃশ্যমান আয় না থাকলেও তিনি প্রাইভেট কারে চলাফেরা করতেন।
একপর্যায়ে শিউলি খাতুন নিজেই দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ডিভোর্স নিতে প্রস্তাব দেন বলে দাবি করা হয়। পরে এক লাখ টাকায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর নাজমুলের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে খোন্দকার কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, শিউলি খাতুন একজন পেশাদার প্রতারক ও মাদকাসক্ত নারী। অতীতে তিনি পাঁচটি বিয়ে করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও দাবি করা হয়। সর্বশেষ তিনি নিজ শরীরে আগুন দিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। তবে তার এজাহারে তথ্যপ্রযুক্তিগত অসংগতি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া শিউলি খাতুনের সঙ্গে আরিফ ও জমজম নামে দুই কথিত সাংবাদিক জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তারা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শিউলি খাতুন এর আগেও হাটফাজিলপুর পুলিশ ফাঁড়ির এক এসআই, নৌবাহিনীর এক সদস্য, কচুয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রব ও রত্নাট গ্রামের বিল্লাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিউলি খাতুন বলেন, খোন্দকার কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার কোনোটিই সত্য নয়। আমার একমাত্র স্বামী ছিলেন বিল্লাল হোসেন। ডিভোর্সের পর তার ছেলে আমাকে ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতন করেছে।
https://slotbet.online/