বাগেরহাট জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন ৫ জন প্রার্থী। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ঋণখেলাপি এবং ভোটারদের তথ্যে গরমিল থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনের সভাপতিত্বে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে জমা পড়া মোট ৩২টি মনোনয়নপত্রের নথিপত্র চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ৫ প্রার্থীর আবেদন আইনগতভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। আসনভিত্তিক বাতিলের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বাতিল হয়েছে বাগেরহাট-১ আসনে। এখানে ভোটারদের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মুশফিকুর রহমান এবং ঋণখেলাপির দায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবুর রহমান শামীম ও জাতীয় পার্টির গোলাম সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
অন্য দিকে, বাগেরহাট-২ আসনে এলডিপির প্রার্থী মোঃ হাসান ইমাম লিটু ঋণখেলাপির কারণে বাদ পড়েছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনের ফলাফল। এই আসনে ভোটারদের স্বাক্ষরে তথ্যের গরমিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খাইরুজ্জামান শিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এখনই হাল ছাড়ছেন না। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আপিল নিষ্পত্তির পরেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
বাছাইকালে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু আনসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়ন বাতিলের এই খবরে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা।
https://slotbet.online/