বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বন বিভাগ। শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে ৫৯ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগ এলাকার কোনো নদী বা খাল থেকে কাঁকড়া আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস হচ্ছে কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে তারা নদী ও খালের কিনারায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য হিসেবে চীন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় শিলা কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এই সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুন্দরবনের প্রায় ৩১ শতাংশ জলভাগের ওপর নির্ভরশীল ১২ হাজার নৌকার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই কাঁকড়া ধরার বিএলসি (বোট লোড সার্টিফিকেট) প্রাপ্ত।
বাগেরহাট পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করেছে এবং বন থেকে জেলেরা ইতোমধ্যে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন।
শরণখোলা স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মাছ ধরার অনুমতি থাকলেও এর আড়ালে কেউ যেন কাঁকড়া শিকার বা পরিবহন করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকতে তারা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভিজিএফ (VGF) চাল সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার সুফল পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা। ‘জলবায়ু সচেতনতা এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অসাধু বনরক্ষীদের যোগসাজশে অনেক সময় ডিমওয়ালা কাঁকড়া পাচারের অভিযোগ ওঠে। এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে হলে যেকোনো মূল্যে উৎকোচ বাণিজ্য বন্ধ করে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।”
https://slotbet.online/