ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যেখানে মিলেছে সেবার নামে গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র।
রবিবার ২৬-শে অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায় দুদক। এনফোর্সমেন্ট দলের সদস্যরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং একাধিক সেবাগ্রহীতা ও রোগীর সাথে সরাসরি কথা বলেন। এর পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযান শেষে দুদক কর্মকর্তা ইমরান হোসেন সাংবাদিকদের জানান, পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি নজরে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, ওয়াশরুমের চরম অপরিষ্কার অবস্থা এবং সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো— হাসপাতালের টেকনিশিয়ান কর্তৃক রোগীদেরকে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় সেবা না দিয়ে বাইরের ক্লিনিক বা ল্যাবে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালের ভেতরেই রোগীদের ‘দালালি’র মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে দুদক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ চৌধুরী কার্যত অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টে সমস্যা রয়েছে এবং স্টাফরা তাঁর কথা ঠিকমতো শুনছেন না। তবে তিনি দ্রুতই এই সমস্যা সমাধানের এবং দায়ী স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
দুদকের এই অভিযান স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।
https://slotbet.online/