আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবার মৃত্যুর পর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে সন্তানরা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় মৃত্যুর ১০ ঘণ্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই বাবার মরদেহ দাফন করা হয়।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের লেদু দেওয়ান (৮০) ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, লেদু দেওয়ান দুই বিয়ে করেন। প্রথম সংসারে ৭ সন্তান ও দ্বিতীয় সংসারে তিন সন্তান রেখে মারা যান তিনি।
লেদু দেওয়ান মৃত্যুর আগে তার সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের দ্বন্দ্ব চলছিল।
শুক্রবার ভোরে তিনি অসুস্থ হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সকাল ১০ টার দিকে মৃত্যু বরন করেন।
পরে তার মরদেহ দাফনের আয়োজন করেন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা। কিন্তু সম্পত্তির হিস্যা নিয়ে কথা তুলে সমাধানের আগ পর্যন্ত দাফনে বাধা দেন প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা। বিষয়টি নিয়ে উভয় সংসারের সন্তানদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।
পরে সন্ধ্যায় কাতলা মারি পুলিশ ক্যাম্পের সহকারি উপপরিদর্শক এ এস আই ইকবাল হোসেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশীদ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। এক পর্যায়ে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ৭০ শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিতভাবে সমাধান করেন। পরে রাত ৮ টার পরে লেদু দেওয়ানের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রয়াত লেদু দেওয়ানের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে হামিদা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা বেগম সব দিয়ে গেছেন।
এ প্রসঙ্গে লেদু দেওয়ানের প্রথম স্ত্রীর সন্তান মনু মিয়া বলেন, ‘আমার বাবাকে জিম্মি করে জোর করে ৩ একর ৭০ শতাংশ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেয় আমার সৎ মা ও তার সন্তানরা।’
তবে প্রয়াত লেদু দেওয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান হানিফের দাবি, ‘আমার বাবা মাকে সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। আমরা জোর করে নেইনি। ওদের অভিযোগ মিথ্যা।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন,লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বসাবসি করে একটি সমাধান হয়েছে।
এতে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ৭০ শতক জমি লিখে দিবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্টাম্প করে দেয় দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা।
কাতলামারি পুলিশ ক্যাম্পের সহকারি উপপরিদর্শক এ এস আই ইকবাল হোসেন বলেন, ‘লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে যাই। উভয়পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের অঘটনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মৃতের স্বজনদের উপস্থিতিতে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করি। সম্পত্তির বিষয়টি প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ৭০ শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিতভাবে সমাধান করা হয়।
https://slotbet.online/