আবু বক্কর সিদ্দিক স্বপন , ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ আদালতপাড়া এলাকার কুখ্যাত প্রতারক ও ধর্ষণ মামলার আসামি বিল্লাল ওরফে বোমা বিল্লালকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার হলিধানী এলাকা থেকে র্যাব-৬ সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আটক বিল্লাল সদর উপজেলার বেড়াশুলা গ্রামের ইয়াসিন বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে সে ঝিনাইদহ শহরের গোপিনাথপুর টিভি সেন্টার কলোনীপাড়ায় বসবাস করছিল।
পুলিশ জানায়, সোনাভানু নামে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগে বিল্লালের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলার পর থেকে সে পলাতক ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিল্লাল আগে নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির বোমা স্কোয়াডের সদস্য ছিল। পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা বলে ভুয়া সনদের মাধ্যমে ঝিনাইদহ আইনজীবী সহকারী সমিতিতে মহুরী হিসেবে কাজ শুরু করে।
আদালতপাড়ায় তার একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে কিছু নারীও জড়িত। তারা যুবকদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে। টাকা না দিলে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়, পরে সেই মামলা থেকে রেহাই দিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়।
ধর্ষণ মামলার বাদী সোনাভানু অভিযোগ করেন, বোমা বিল্লাল তাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করত। এমনকি থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে অভিযোগ করতে বলেছিল। রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বাধ্য হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে হরিণাকুন্ডুর শাখারীদহ গ্রামের আল আমিন নামে এক যুবক জানান, আদালতপাড়ায় একটি মক্ষিরানী চক্র সক্রিয় রয়েছে। কিছু অসাধু আইনজীবীর সহায়তায় আসমা নামের এক নারী এই চক্রের নেতৃত্ব দেন। তাদের ফাঁদে পড়ে প্রায় ২০-২৫টি পরিবার ভুয়া মামলার আসামি হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আসমা ও বিল্লাল একে অপরের বাদী ও সাক্ষী সেজে খুলনা, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— খুলনা সোনাডাঙ্গা: সিআর ২৭৬/২৫, খুলনা আইসিটি আদালত: ৫০/২৫, ঝিনাইদহ নারী ও শিশু আদালত: পি-২৮/২৫, আড়ংঘাটা (খুলনা): সিআর-১৫/২৫, ঝিনাইদহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত: ১০/২৫, ৪৭৪/২৪, ৬৮০/২৪, ১৮/১৪, ৬৮০/২৫, ৫৬৬/২৫, ৫৬৭/২৫ ও ৩৪/২৫
এসব মামলার মাধ্যমে তারা প্রভাবশালী পরিবার ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ধর্ষণ মামলায় বিল্লালকে আটক করা হয়েছে। আদালতপাড়ায় সে একজন চিহ্নিত প্রতারক হিসেবে পরিচিত। বহুদিন ধরে মিথ্যা মামলা করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল।”
https://slotbet.online/