দেবিদ্বার উপজেলার সকল বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল ও ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে আয়োজিত এক বৈঠকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে
১. কোনো অবস্থাতেই অনুমোদনবিহীন ট্রলি, বা এফ.সি.এস.এম পার্ট ১.২ নামক টাইটেল ব্যবহার করা যাবে না।
২. দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতাল থেকে দালাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে রোগী এনে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া যাবে না।
৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল বা ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিএমডিসি অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেটিস্ট ছাড়া কোনো ধরনের অপারেশন, সার্জারি বা ইন্টারভেনশনাল প্রক্রিয়া পরিচালনা করা যাবে না।
৪. সরকারি চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালের বাহিরে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে পারবেন না সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তবে সরকারি ছুটির দিন এই নিয়মের বাইরে থাকবে।
৫. কোনো ভুয়া বা অস্বীকৃত ডিগ্রিধারী দ্বারা চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা যাবে না।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এই কঠোর পদক্ষেপে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকরা একমত প্রকাশ করে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় এবং স্থানীয় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্র ও ভুয়া চিকিৎসকের কার্যকলাপে ভুক্তভোগী রোগীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।
উপজেলার সচেতন মহলও এই উদ্যোগকে “সময়ের দাবি” বলে উল্লেখ করেছে। ব্যবসায়িক স্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং রোগীর সুরক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে—এমন উদ্যোগে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে বলেও তারা মনে করছেন।
এর আগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রমে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সকল নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন হলে দেবিদ্বারে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা কমে আসবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
https://slotbet.online/