• শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কৃষকদল নেতার মৃত্যু: ঝিনাইদহে লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, স্ট্রোকের দাবি জামায়াতের বিরলে ০৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতার যৌথ উদ্যোগে ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সখীপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার আসামি অন্তর আহমেদ গ্রেপ্তার বিরল উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় দুই যুবকের মৃত্যু সখিপুর টাইগার ক্লাব আয়োজিত ইফতার ও দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় ব্ল্যাকমেইল চক্রের ফাঁদে ব্যবসায়ী, নগ্ন ভিডিও করে মুক্তিপণ দাবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের শ্রদ্ধা নিবেদন নড়াইলে ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনে কাঁটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র দেশপ্রেমের অনির্বাণ শিখা শহীদ ক্ষুদিরাম বসু

উজ্জ্বল কুমার সরকার / ১৬৭ Time View
Update : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

আজ ১১ আগস্ট ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ –ক্ষুদিরাম বসুর আত্মাহুতি দিবসে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট,পুব আকাশ লালে লাল, সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন। চারিদিকে সশস্ত্র পুলিসি প্রহরা। বুক চিতিয়ে শিরটা টান টান করে হাসিমুখে মুক্ত পুরুষের মত দৃঢ় প্রত্যয়ে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে চলেছেন ক্ষুদিরাম । সকাল ছটায় ক্ষুদিরামের ফাঁসি।

আর মাত্র কয়েক সেকেণ্ড, জন্মভূমি মায়ের পায়ের পরাধীনতার শেকলটাকে ভেঙে চুরমার করতে হবে- মুক্ত করতে হবে দেশ মাকে । তাই জীবন মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে দেশের স্বাধীনতা চাইই। সাম্রাজ্যবাদী ঘাতকেরা প্রহর গুনছে । কিন্তু যার জন্য এই প্রহর গোনা তার সেদিকে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। ফাঁসির মঞ্চে উঠে ভালো করে ফাঁসির দড়িটা দেখে নিয়ে হাসতে হাসতে ফাঁসুড়েদের প্রশ্ন করলেন-আচ্ছা, তোমরা ফাঁসির দড়িতে মোম দাও কেন?
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ –ক্ষুদিরাম বসু

১৮৮৯ সালের ৩রা ডিসেম্বর মেদিনীপুর শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে কেশপুর থানার মোহবনি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ক্ষুদিরামের বাবা ত্রৈলোক্যনাথ বসু নাড়াজোল রাজার এস্টেটে তহশিলদার পদে চাকরি করতে মেদিনীপুর শহরে হবিবপুর অঞ্চলে কিছুটা জায়গা কিনে একটি মাটির বাড়ি তৈরি করেন। কেউ কেউ বলেন হবিবপুরেই ক্ষুদিরামের জন্ম হয়। ক্ষুদিরামের মা লক্ষীপ্রিয়ার তিন মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে ক্ষুদিরামই সবার ছোট। ক্ষুদিরামের জন্মের আগে তার দুই দাদার অকাল মৃত্যু হয়।

মাত্র ছ বছর বয়সেই ক্ষুদিরাম তার মাকে হারায়। মায়ের মৃত্যুর কয়েকমাস পরেই বাবারও মৃত্যু হয়। মা-বাবার মৃত্যুর পর ক্ষুদিরামকে দিদি অপরুপা ও তার স্বামী অমৃতলাল রায় নিয়ে যায় নিজের বাড়ি দাসপুর থানার হাটগেচ্ছ্যা গ্রামে । সাত বছর বয়সে ক্ষুদিরাম সেখানে গিরিশ মুখোপাধ্যায়ের পাঠশালায় ভর্তি হন । কিছুকালের মধ্যে অমৃতলাল চলে আসেন তমলুক শহরে ,সেখানে হ্যামিলটন ইস্কুলে চতুর্থ শ্রেনিতে ক্ষুদিরামকে ভর্তি করা হয় ।

১৯০৪ সালে ক্ষুদিরামের ভগ্নীপতি অমৃতবাবু মেদিনীপুর শহরে বদলি হওয়াতে ক্ষুদিরামকেও তমলুক শহর ছেড়ে মেদিনীপুরে চলে আসতে হল। সেখানে তিনি ভর্তি হলেন মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুলে। সেখানে পড়ার সময়ে শরীর চর্চায় ও ব্যায়াম শিক্ষায় তার নিপুনতা অন্যান্য ছাত্রদের তার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। দেশের মুক্তি সংগ্রামে আত্মোৎসর্গের উপযোগী দেহমন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই তিনি শরীর চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

ছোটবেলা থেকেই ক্ষুদিরাম ছিলেন সকলের চেয়ে একেবারে অন্যরকম। ক্ষুদিরাম যেমন ছিলেন ডানপিটে ,বেপরোয়া আর একগুঁয়ে,তেমনি আবার পরোপকারী,বন্ধুবৎসল ও স্পষ্টবাদী। বিচিত্রগুনের অধিকারী দারুন প্রানশক্তিতে ভরপুর ক্ষুদিরাম সহজেই তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষকদের মন জয় করে নিতে পেরেছিলেন। মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক ছিলেন জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু। ইতিহাস পড়ানোর সূত্রে তিনি ছাত্রদের ভালো করে বুঝিয়ে দিতেন অত্যাচারী ইংরেজদের শয়তানি আর দুরভিসন্ধির কথা। ছাত্রদের মনে সঞ্চার করে দিতেন দেশপ্রেমের প্রেরণা। জ্ঞানেন্দ্রনাথ সদ্য কিশোর বয়সী এই ছাত্রটিকে কাছে টেনে নিলেন।ছাইচাপা আগুনের মত এই ছেলেটিকে চিনে নিতে তার ভুল হয়নি। ক্ষুদিরামের মনের গভীরের সুপ্ত দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলেন এই জ্ঞানেন্দ্রনাথ।

সারা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক অগ্নিযুগের । ইংরেজ বিরোধী বিরোধী বিপ্লবের আগুন জবলছে দেশবাসীর মনে। সাম্রাজ্যলোভী বৃটিশ সরকারকে তাড়াতে হবে দেশ থেকে । অরবিন্দ বারীন ঘোষের উদ্দ্যোগে কলকাতার মানিকতলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গুপ্ত সমিতি। মেদিনীপুর তখন বিপ্লবীদের প্রধান কর্মকেন্দ্র ।মেদিনীপুরেও গুপ্ত সমিতি গঠিত হয় ।সেই সমিতির দায়িত্বভার ছিল জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু,তার ভাই সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও হেমচন্দ্র কানুনগোর উপর । মেদিনীপুরে বিপ্লবীদের প্রধান দলপতি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। গুপ্ত সমিতির বিভিন্ন আখড়ায় ঘুরে ঘুরে সত্যেন্দ্রনাথ কুস্তি ,লাঠিখেলা,ছোরা ইত্যাদি শেখাতেন দলের ছেলেদের । বিপ্লবের মন্ত্র প্রচার করে বেড়াতেন সকলের মধ্যে ।
দেশজোড়া স্বদেশী আন্দোলনের হাওয়া এসে লাগে ক্ষুদিরামের মনে।সময়টা ১৯০৫ সাল,১৬ই অক্টোবর।কুখ্যাত বড়লাট লর্ড কার্জন বাংলাকে ভেঙে দু টুকরো করে দিলেন ।দূর্বল করে দিতে চাইলেন বাঙালীর লড়াকু মনোভাবকে ।বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে গর্জে উঠল সারা দেশ । শোক দিবস হিসাবে ঘরে ঘরে পালিত হল অরন্ধন।চারিদিকে শুরু হল ধর্মঘট। রবীন্দ্রনাথ শুরু করলেন রাখীবন্ধন উৎসব।বিদেশী জিনিস বর্জনের সাড়া পড়ে গেল দিকে দিকে। চারিদিকে শুরু হল পিকেটিং। দেশের নির্ভীক যুব,ছাত্র সমাজ সবার আগে এগিয়ে এল এই কাজে।

সারা মেদিনীপুর তখন অগ্নিগর্ভ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নেতৃত্বে তৈরি হয় বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। ক্ষুদিরাম সেখানে সবার আগে । মেদিনীপুর শহরে প্রায় দশ হাজার মানুষের বিশাল মিছিল বেরোয়-পুরোভাগে ক্ষুদিরাম। ছাত্র যুবরা শপথ নিলেন তারা বিলিতি জিনিস ব্যবহার করবেনা।
দেশের কাজে মনে প্রানে উদ্দীপ্ত হয়ে উঠেছেন ক্ষুদিরাম।
১৯০৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মেদিনীপুরে জেল খানার প্রাঙ্গনে কৃষি ও শিল্প মেলায় বহু মানুষের সমাগম। বিপ্লবী চিন্তাধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী ভাষায় সত্যেন বসুর লেখা ‘সোনার বাংলা’ নামে একটি প্রচার পত্রিকা জনসাধারনের মধ্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিল গুপ্ত সমিতি আর বিলি করার দায়িত্ব দেওয়া হল ক্ষুদিরামের ওপর। প্রচার পুস্তিকা বিলিতে বাধ সাধে ব্রিটিশ পুলিশ। কে শোনে কার কথা। পুলিশের বাধা মানা তো দূরের কথা,পুলিশ কে ঘুষি মেরে পালিয়ে যায় ক্ষুদিরাম। ক্ষুদিরামের নামে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হল।

অবশেষে ক্ষুদিরাম নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পন করেছিলেন। এবার তার বিরুদ্ধে শুরু হল রাজদ্রোহের মামলা। ক্ষুদিরামই বাংলার সেই প্রথম বিপ্লবী যার বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার প্রথম রাজদ্রোহের মামলা দায়ের করে। জেল হাজতে পাঠানো হয় ক্ষুদিরামকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
https://slotbet.online/