ক্যানসারে আক্রান্ত আমির বয়াতি (৪৫) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসার অভাবে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের এই জেলে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
দীর্ঘদিন মাছ ধরে সংসার চালালেও হঠাৎ ক্যানসারে আক্রান্ত হন আমির বয়াতি। তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানান, “প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীর পায়ে আঘাত পেয়েছিল। তিন বছর আগে সেখানে টিউমার ধরা পড়ে। খুলনায় অপারেশন করাই, কিছুদিন ভালোও ছিল। পরে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সাহায্যে ঢাকা যাই, কিন্তু সব টাকা টেস্টেই শেষ হয়ে যায়। এরপর বাড়ি ফিরতে বাধ্য হই।”
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা। এই ব্যয়ভার বহন করার মতো সামর্থ্য নেই আমিরের পরিবারের। ইতিমধ্যেই পৈত্রিক ভিটেমাটি বিক্রি করে এবং ধার-দেনা করে যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখন সে পথও বন্ধ।
আমিরের ৭ বছরের ছেলে রমজান বাবার চিকিৎসার জন্য কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমার আব্বুর চিকিৎসা দরকার। কেউ কি সাহায্য করবে না?”
প্রতিবেশী শহিদুল জোমাদ্দার ও ফারুক বয়াতি জানান, “আমরা গ্রামের মানুষ মিলে কিছু টাকা তুলে ঢাকা নিয়ে যাই। কিন্তু সেই টাকায় শুধুই কিছু টেস্ট করাতে পেরেছি। এরপর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। আমিরের যে পরিমাণ টাকার দরকার, সেটা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বশিরুল ইসলাম বলেন, “আমির বয়াতি আমার ওয়ার্ডের একজন দরিদ্র জেলে। বহুদিন ধরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। তার পরিবার ইতোমধ্যেই ভিটেমাটি বিক্রি করে চিকিৎসা চালিয়েছে। এখন সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য ছাড়া এই মানুষটিকে বাঁচানো সম্ভব নয়।”
সমাজের প্রতি পরিবারের আকুতি
আমির বয়াতীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা দেশের হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে একটাই অনুরোধ জানিয়েছেন— “আপনাদের সাহায্যেই বাঁচতে পারে একজন মানুষ, বাঁচতে পারে একটি পরিবার।”
যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়াতে চান, পরিবারটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সহায়তা করতে পারেন।
https://slotbet.online/