কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে স্বামী বাড়ীতে না থাকায় শ্বশুর পুত্রবধুকে কু-প্রস্তাব, রাজী না হওয়ায় মারপিঠ মর্মে থানায় অভিযোগ।
যশোদল ইউনিয়নের বীরদামপাড়া এলাকায় শ্বশুর- শ্বাশুড়ী, ননদ ও দেবরের অত্যাচারে দিশেহারা সাফিয়া নামক নারী।
মঙ্গলবার ২২জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, বীরদামপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে রাকিব প্রেম করে গত ৪ মাস পৃর্বে বিয়ে করে জেলার তাড়াইল উপজেলার বরুহা গ্রামের সাফিয়াকে।
বিয়ের পর থেকেই রাকিবের বাবা নজরুল ও মা স্বপ্না তাকে সাফিয়াকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
তাদের অত্যাচারে ও ভবিষ্যতে জীবনের কথা ভাবিয়া সাফিয়া বাবার বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এনে দিলেও নির্যাতন কমেনি বরং আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে সে আরও নগদ ৭০ হাজার টাকা এনে দেয় বাবার বাড়ি থেকে। এখানেই শেষ নয় নির্যাতন, বাবার দেয়া স্বর্ণালঙ্কার গুলোও লুকিয়ে নিয়ে বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা টিনের দোকানে বাকি পরিশোধ করে রাকিব ও পিতা নজরুল।
তারই ধারাবাহিকতায় শ্বশুর শ্বাশুড়ী মিলে স্বামী রাকিবকে গোপনেঢাকা পাঠিয়ে দেয় এবং সাফিয়াকে যৌতুকের টাকা জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
সেই সাথে টাকা না দিলে স্বামীর খোঁজ দিব না বরং বাড়ী থেকে বের করে দিবে বলে হুমকি দিয়ে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে এমনকি খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
সেই সাথে শ্বশুর নজরুল মিয়া পুত্রবধু সাফিয়াকে বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দেয় ও রাতের বেলা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার সুযোগ খুঁজে।
এতে সাফিয়া রাজি না হওয়ায় গত ২১ জুলাই রাতে শ্বশুর সাফিয়াক কু-প্রস্তাব দেয়, এবং বলে ঢাকা গিয়ে শ্বশুর ও সাফিয়া পুত্রবধু সংসার করার করতে।
তাতে সাফিয়া রাজি না হওয়ায় শ্বশুর নজরুল, শ্বাশুড়ী স্বপ্না, দেবর ফাহিম ও ননদ সাইমা মিলে সাফিয়াকে বেদম মারপিঠ ও জোরপূর্বক বাড়ীসহতে বের করে দেয়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সকালে বিচার করবে বলে আশ্বাস দেয়।
থানায় দায়ের কৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, শ্বশুর নজরুল মিয়া নিজে আগের বউ ছেড়ে দ্বিতীয় বউ নিয়ে সংসার করছে।
তার এক মেয়েকে স্বামীর ঘর থেকে নিয়ে আসে এবং ছেলেকে পুনরায় বিয়ে করিয়ে আরও বেশী যৌতুক নিবে। শ্বশুরের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় দিনদিন নির্যাতনে বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছেলেকেও লুকিয়ে রেখেছে ভরণপোষণ করছে না।
অভিযোগের বিষয়ে সাফিয়ার শ্বশুর নজরুলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে বলে আমার ৫ লাখ টাকা ঋণ আছে, তাছাড়া ছেলেও বউ নিয়ে সংসার করবে না, তাতে আমার জেল হলে হবে।
শ্বাশুড়ী স্বপ্না বলেন আমার বাড়িতে থাকলে এ বউ রোজগার করে আমার সংসার ছালাতে হবে নয়তো চলে যাক। আমার টাকার দরকার তাঁকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারব না।
এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা জানান, নজরুল ও স্বপ্না সাফিয়ার উপর নির্যাতন করে এটা সত্য, তবে নজরুল কারো কথা শুনে না তাই কেউ বিচার করতে আসে না। এ কারণে নজরুলের বাবার সাথেও তার সম্পর্ক ভালো নয়। সেই সাথে ছেলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় মোবাইলে তা আমরা দেখি কথা বলতে। মূলত সাফিয়ার বাবার বাড়ী হতে টাকা এনে অটোরিকসা কিনে দিতে পুত্রবধূর উপর অত্যাচার নির্যাতন করছে।
https://slotbet.online/