খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর উপাচার্য মোহাম্মাদ মাছুদ এর পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কুয়েটের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ব্রিফিং করে একথা জানান এবং এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না আগামী কাল তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন বলে ঘোষণা দেন।
প্রেস ব্রিফিং এ কুয়েট শিক্ষর্থীরা বলেন কেনো আমরা আজ ৬ দফা থেকে এক দফা ভিসি অপসারণে এসে দাড়িয়েছি সেটা আপনাদের যানা দরকার। বিগত দুই মাসে আমরা হামলা-মামলা ও বহিস্কারের শিকার হয়েছি। ভয়েস অব কুয়েট নামে কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফেরত আনার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে কুয়েট প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেটা অস্বিকার ও করছে। নাম মাত্র অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামী করে লোক দেখানো মামলা দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে দূর্বল করার অপচেষ্টা করছে। চিহ্নিত একজন সন্ত্রাসীকেও গ্রেফতার না করা। হলের নেট লাইন, পানি বন্ধ করে স্বৈরাচারী আচরন করে আমাদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া। জুলাই সহ সকল গ্রাফিতি মুছে ফেলা। ঈদের পরে হল না খুলে দুই দিন আমাদেরকে খোলা আকাশের নিচে কুকুরের সাথে রাত্রি যাপন করানো। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অন্যায় ভাবে আন্দোলনরত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা। ইউনিয়ন বিএনপি নেতার পেছনে সম্মানিত শিক্ষকদের দার করানো।
আমরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর জানিয়েছিলাম ভেবেছিলাম তিনি একটা ব্যবস্থা নিবেন আমরা এটাও ভেবেছিলাম হয়ত শিক্ষরা আমাদের নিয়ে একটা সমাধান করবে। কিন্তু কিছুই ঘটেনি তাই আমরা আজ ৬ দফা থেকে একদফায় যেতে বাধ্য হই।
এখন আমাদের একটাই দাবি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিসি কে অপসারণ করা না হলে আমরা আমরণ অনশণে যাবো। মরতে হয় এই কুয়েট ক্যাম্পাসেই মৃত্যুবরণ করবো।
প্রফেসর ড. মনির হোসেন বলেন, আসলে এটা একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আমরা কেও কারো বিপক্ষে অবস্থান করছি বিষয়টা এরকম না। আমরা সব সময় তাদেরকে সহযোগীতা করতে চেয়েছি। তারা যখন ফাকা আকাশের নিচে রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত নেয় তখন তাদের কে আমরা আমাদের বাসায় পর্যন্ত রাত্রি যাপনের কথা বলেছি কিন্তু তারা তা শোনেনি। তাছাড়া আজকেও আমাদের পক্ষথেকে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করা হবে একটা সমঝোতার জন্য। আমরা সর্বদা তারে পাশে ছিলাম এখনো আছি।
প্রফেসর মোঃ গোলাম কাদের বলেন, আমি এই কুয়েটে ৩৮ বছর চাকুরী করছি। অতিতেও এই ধরনের সমস্যা হয়েছে। শিক্ষকরা ভূমিকা রেখেছে, এবারও রাখছে। তবে এবার ছাত্রদের আন্দোলনের যে মোটিভ তারা জুলাই আন্দোলনের সাথে এটাকে মেলাতে চাচ্ছে যেটা মোটেও ঠিক না কারন এটা একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটা জুলাই আন্দোলনের সাথে কখনোই মিশবেনা। আজকে যেটা দেখা যাচ্ছে তাতে এটা প্রমানিত হয় না যে কুয়েটের সকল অর্থাৎ ৫০০০ শিক্ষার্থীর তারা প্রতিনিধিত্ব করছে। এখনো ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের সাথে আমার যোগাযোগ হচ্ছে তারা অবশ্যই কুয়েটে ফিরতে চায় তবে তার জন্য প্রয়োজন একটা সুষ্ঠু পরিবেশের। আমরা চেষ্টা করছি আলোচনার মাধ্যমে কিভাবে সমস্যাটার সমাধান করা যায় কারন এভাবে একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আমিও জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে মাঠে থেকেছি। আমি এই কুয়েটের প্রতিটা ছাত্রদের ভালোবাসি। আমি আশাকরি ছাত্রদের সাথে বসে খুব তাড়াতাড়িই তাদের এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
https://slotbet.online/