‘আমি মরে গেলেও তোরা আমার ছেলেদেরকে লাশ দেখতে দিবিনা।’ আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে এমন ওসিয়ত করে বৃহস্পতিবার (২৭মার্চ/২৫) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছমির উদ্দিন (৭০)। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ভাংগুরহাটি গ্রামের একরাম হোসেনের পুত্র।
মৃত্যুর খবর আসলে মৃত ব্যক্তির ওসিয়তকে কেন্দ্র করে ‘লাশ ও জানাযায়’ মৃত ব্যক্তিদের সন্তানদের বিষয় নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী উত্তেজনা বিরাজ করে। এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির সন্তানরা স্থানীয় প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান। বিকালে বাবার লাশের কাছে গেলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে মৃতের পুত্র রায়হান উদ্দিন জানান, বাবার লাশ দেখতে দেয়নি। অনেক জোর করে শুধু জানাযায় অংশ নিতে পেরেছি।
সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মেহেদী হাসান লিটন জানায়, ছমির উদ্দিনের সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় তাঁকে মানসিকরোগী সাজিয়ে নেত্রকোণার একটি রিহাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাজ্জাদুল হাসান ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুৃজ ইবনে আইয়ুবের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে আনা হয়। প্রশাসন ও এলাকাবাসী তাকে দেখবালের আমাকে দায়িত্ব দেন। ৪/৫দিন আগে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ্য অবস্থায়ও তার ছেলে বা স্ত্রী তাকে দেখতে যাননি। রিহাব সেন্টার থেকে আনার পর তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দেন, গ্রাম পুলিশ দিয়ে সেই তালাকের চিঠিও পাঠানো হয়, তবে তিনি রিসিভ করেন নাই। সন্তানরা যেনো মারা যাওয়ার পরেও লাশ দেখতে না পারে সে জন্য পরিবার ও আমাদের নিকট ওসিয়ত করে যান। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন মৃত ব্যক্তির ছোট হাজী মো. আলাল উদ্দিন মাস্টার। তিনি বলেন, সন্তান ও স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত পারিবারিক কলহ ছিলো। মৃত্যুর আগে রাগে-ক্ষোভে ওসিয়ত করেছেন। ছেলেরা আসুক, তার বাবাকে দেখে যাবে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ছেলেরা বাবার লাশে পাশে দাড়ানোর পূর্ব মুর্হূতেই হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। কিছু উত্তেজিত লোকজন ছেলেদের দিকে তেড়ে যেতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিরে চলে গেলে বাবার লাশ না দেখেই ছেলেরা সেখান থেকে সরে দাড়ান।
এ প্রসঙ্গে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী (তালাকপ্রাপ্ত) মেহেরুন নেছা (৬০) জানান, আমার ৩ ছেলে। তারা হলেন সোলেমান হোসেন, ঢাকায় কলেরা হাসপাতালে চাকুরি করেন। এছাড়াও রায়হান উদ্দিন বাড়িতে থাকেন ও বুরহান উদ্দিন একটি কোম্পানীতে চাকুরি করেন। আমার স্বামী ২০১৪সন থেকে নির্যাতন করছে। ছেলেদের সাথেও ভালো আচরণ করে না। গ্রামের লিটন মেম্বার আর সোলেমানসহ কিছু লোকজন তাকে নিয়ে দলবেঁধে আমার ছেলেদের ওপর নির্যাতন করছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাইক মেরে আমাকে তালাক দিয়েছে। এই তালাক তো হয় নাই। কিছু লোকজন স্বার্থের জন্য এ কাজ করছে। আমাকে ও সন্তানদেরকে লাশটাও দেখতে দেয়নি। বাড়িঘরে হামলা করারও হুমকি দিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রায়হান উদ্দিন বলেন, আমাদের তো জীবন বাঁচে না। বাবার সম্পত্তিতে যাবো কিভাবে? বাবাকে ভুল বুঝিয়ে আগেও কিছু জমি বিক্রি করা হয়েছে। এখনো ১১শতাংশ বাজারের জমি ১০লাখ টাকা বিক্রি করেছে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে খবরও আমাদের জানানো হয়নি। বাবাকে দিয়ে মামলা করিয়ে আমাকে ৩বার জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
ওয়ার্ড মেম্বার মেহেদি হাসান লিটন আরও জানান, শুধু তাকে পাগল সাজায়নি। বাবার পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করতো ছেলেরা। এ কারণে ভয়ে তিনি বাড়িতে থাকতেন না। হয়তো বড় ভাইয়ের বাড়িতে আর না হলে বাজারের ঘরে থাকতেন। জমি লিখে না দেয়ার কারণে এমন নির্যাতন করা হতো।
https://slotbet.online/